ঢাকা, শনিবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬ সফর ১৪৪৩

রাজনীতি

ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগে আওয়ামী লীগ

শামীম খান | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০১০
ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগে আওয়ামী লীগ

ঢাকা: ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর এ নিয়ে উদ্বেগ একটু বেশিই।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।  

এ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারা অনুকুল পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং নির্ভরযোগ্য দলীয় মেয়র প্রার্থীর অভাবটাকেই বড় করে দেখছেন।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘মহানগরীর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সঙ্কট ও যানজটসহ জনজীবনে নানামুখি সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলকেও নানামুখি সমালোচনার মুখে পরতে হচ্ছে। ’

এসব কারণে নির্বাচন যত দেরি হচ্ছে পরিস্থিতি ততই আওয়ামী লীগের প্রতিকুলে চলে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন তিনি।

দলের জন্য অনুকুল পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে মেয়র প্রার্থীর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে বলে জানান অপর একজন নেতা।    

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী প্রার্থীর পরাজয়ের পর ঢাকা সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়গুলো আমাদের কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলেছে। ’

গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পেয়েছে। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এটাই ছিলো ঢাকায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ আসনে বিজয়।

এই বিজয়কে ধরে রাখা এবং ঢাকার রাজনীতিকে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ওই নেতা।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের জয়-পরাজয় জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। তাই এ নির্বাচন সবৈবভাবেই আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ’

তবে এ নিয়ে নিরুদ্বেগ বক্তব্য শোনা গেলো দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে তিনি বলেন, ‘এটি স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন যখনই হোক আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা কোনো মনোনয়ন দেবো না, সমমনা একজনকে সমর্থন করব। বিষয়টি দলের মধ্যে আলোচনায় আছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) খোঁজ খবর নিচ্ছেন। ’

নগরবাসীর ভোট কাড়তে ডিসিসি নির্বাচনের জন্য একটি সঠিক সময় বেছে নেওয়া হবে বলেও জানান একজন সিনিয়র নেতা।

তার মতে, বিদ্যুৎ গ্যাস ও পানির সঙ্কট থেকে এখন নগরকে কিছুটা মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।   আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ সঙ্কট আরো কমে আসলে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কথা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।    

প্রার্থী কে হচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নীতিনির্ধারকরা ব্যক্তি প্রভাব ও রাজনৈতিক দুরদর্শী সম্পন্ন প্রার্থীর কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন। যাকে সমর্থন (মনোনয়ন) দিলে নির্বাচনে বিজয়ের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতির জন্য প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সুত্র জানায়, মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী যে কজনের নাম এখন পর্য্ন্ত আলোচিত হচ্ছে তাদের কারো উপরই এধরণের পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছেন না দলের নীতিনির্ধারকরা। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাঠের অবস্থা এবং আগ্রহী প্রার্থীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।  

এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মেয়র প্রার্র্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, দলের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী, সবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাইয়িদ খোকন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, একেএম রহমতউল্লাহ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য একে আজাদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, হাজি মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে প্রার্থীতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে হানিফ নিজের প্রার্থী হওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রার্থী হওয়ার চিন্তা করছি না, ইচ্ছাও নেই।

সম্ভাব্য প্রার্থী সাঈদ খোকন বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে তবে প্রার্থী হওয়া নেত্রীর (শেখ হাসিনা) উপর নির্ভর করছে। তিনি বললে করবো।

একেএম রহমত উল্লাহ বলেন, দলের নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। নেত্রীও বলেছিলেন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে। দল আমাকে সমর্থন দিলে নির্বাচন করবো।

বাংলাদেশ সময় ০৯৫২ ঘন্টা, জুলাই ১৪, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa