ঢাকা, সোমবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮ সফর ১৪৪৩

রাজনীতি

চৌধুরী আলমকে সরকারই নিয়ে গেছে, ফিরিয়ে না দিলে কঠোর কর্মসূচি: খালেদা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮১০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১০
চৌধুরী আলমকে সরকারই নিয়ে গেছে, ফিরিয়ে না দিলে কঠোর কর্মসূচি: খালেদা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘চৌধুরী আলমকে সরকারই নিয়ে গেছে। অবিলম্বে তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।



সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিখোঁজ কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ার বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সময় সরকারকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহবান জানান তিনি।

মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান সরকার ১৯৭২-’৭৪ সালের মতো গুপ্তহত্যা শুরু করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তারা খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। ’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মানুষ অপহরণ ও নিখোঁজ হতো। কিছু দিন পর তাদের লাশ (ডেডবডি) পাওয়া যেতো। এখন আবার ক্ষমতায় এসে তারা একই প্রক্রিয়ায় খুন, ডাকাতি, রাহাজানি শুরু করেছে। এখন বাইরে তো বটেই, ঘরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। তারা দেশের মানুষের ভাবে না। বিদেশিদের কাছে যে ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে সেই ওয়াদা পূরণেই তারা এখন ব্যস্ত। ’  

দলীয় ক্যাডারদের রাস্তায় নামিয়ে বিরোধী দলকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। আবার আমাদের নেতাকর্মীদের নামেই মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। তারা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ ধ্বংস করছে। তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। তারা দেশ চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। গত ১৮ মাসে তারা কিছুই করতে পারেনি। বাকি সময়ে তারা যে কিছু করতে পারবে তা-ও আশা করা যায় না। ’  

চৌধুরী আলমের বাসায় খালেদা জিয়ার যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিকেল থেকেই ওই এলাকায় মানুষ সমবেত হতে থাকেন। মালিবাগ মোড় থেকে খিলগাঁও বায়তুত তাকওয়া জামে মসজিদ কোয়ার্টার রোডে চৌধুরী আলমের বাসা (৩১৫/৩/সি) পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানো বিুব্ধ জনতা তার সন্ধান দেওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।  

চৌধুরী আলমের বাসায় খালেদা জিয়া পৌছান সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায়। ২৭ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন তিনি। সেখানে চৌধুরী আলমের স্ত্রী মায়া বেগম, তার দুই ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী ও আবু সগির চৌধুরী, দুই মেয়ে মাহমুদা আক্তার ও মাহফুজা আক্তার এবং চৌধুরী আলমের ১০ ভাইবোনের মধ্যে উপস্থিত ৪ ভাই ৩ বোনকে শান্ত্বনা দেন খালেদা।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, ঢাকা জেলা বার সমিতি সভাপতি অ্যাডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়া, বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংসদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন রাত সাড়ে আটটায় ফার্মগেট এলাকা  থেকে চৌধুরী আলম নিখোঁজ হন। তার পরিবারের সদস্যরা  থানা ও র‌্যাব অফিসে খোঁজ নেন। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার বা তুলে নেওয়ার কথা অস্বীকার করে। এরপর চৌধুরী আলমকে জনসম্মুখে হাজির করার দাবিতে ১০ জুলাই রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa