ঢাকা, বুধবার, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি

আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে : খালেদা জিয়া

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৪৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১২, ২০১০
আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে : খালেদা জিয়া

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিদেশি শিল্পীরা আমাদের দেশে আসবে, আমাদের শিল্পীরা বিদেশে যাবে, এভাবেই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যেমে আমাদের সংস্কৃতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সামনে এগিয়ে নিতে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে সব আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।


 
রোববার রাত ৮টায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর নবনির্বাচিত কমিটির উদ্দেশ্য তিনি এসব কথা বলেন। কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

এ সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাযহারুল আনোয়ার, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, অভিনেতা মিশা সওদাগর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে নবনির্বাচিত কমিটি খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

খালেদা জিয়া দেশের সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিদেশী শিল্পীরা আমাদের দেশে আসবে। তবে আমাদের শিল্পীদেরও তাদের দেশে যেতে দিতে হবে। একতরফা নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ। আমার বিশ্বাস দেশের এ সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিতে পারবে জাসাস। আর তাতেই বিশ্বব্যাপী আমাদের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। নিজের বৈচিত্র্য প্রমাণ করতে পারবে। আর তখনই বিদেশিরা আমাদের সংস্কৃতিকে অনুসরণ করবে। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘পেশাগত কারণে অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বই অতীতে সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেননি। তবে নেপথ্যে থেকে আমাদের সহযোগীতা করেছেন। এখন তারা আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শরিক হচ্ছেন। তবে এখনও যারা শরিক হননি, সময় এসেছে দেশ রক্ষা ও উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রায় একযোগে কাজ করার। ’

খালেদা জিয়া নবগঠিত জাসাসকে সবধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আশা করছি নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে জাসাস নতুন করে সুসংগঠিত হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিরাট অবদান রাখতে সম হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ও আদর্শ পূরণে সফল হবে। ’

তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে শহীদ জিয়াউর রহমান তার অনেক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। আমরাও অতীতে সেটা পারিনি। কারণ মতায় থাকলেও আমাদের সব সময় সংগ্রাম করতে হয়েছে। একটি দল প্রকাশ্যে বলেছিল, আমাদের একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবে না। ফলে অতীতে আমাদের অনেক প্রচেষ্টা সত্বেও পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশের কোনো মানুষই ভাল নেই। ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক থেকে মা-বোন কেউ আজ ভাল নেই, নিরাপদ নেই। দেশের শিক্ষাঙ্গনেও চলছে নৈরাজ্য। তবে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে এটা হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ’

এর আগে রাত ৮টায় গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর পর  জাসাসের নবগঠিত কমিটির নেতা-কর্মীদেরও তিনি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, গীতিকার মুন্সী ওয়াদুদ, জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময় : ২২৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১২, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa