bangla news

সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-২২ ৬:২৯:২২ এএম

তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক। সংবিধান সংশোধন, খালেদার সেনানিবাসের বাড়ি, কোকোর প্যারোল বাতিল, তারেকের নামে মামলা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ইত্যাদি ইস্যুতে....

ঢাকা: তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক। সংবিধান সংশোধন, খালেদার সেনানিবাসের বাড়ি, কোকোর প্যারোল বাতিল, তারেকের নামে মামলা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ইত্যাদি ইস্যুতে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে তৈরি হওয়া এ তিক্ততা দিন দিন বাড়ছেই।

নাটোরে উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যা, সিরাজগঞ্জে খালেদা জিয়ার সমাবেশস্থলের কাছে ট্রেন চাপায় বিএনপিকর্মীদের মৃত্যু ও প্রতিবাদে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ- গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা, তাদের বাড়িতে হামলা-গ্রেপ্তার ইত্যাদি ইস্যুও তিক্ততা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে আলোচনা চালু আছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে।

রাজনীতিকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া সেনানিবাসের বাড়িতে থাকতে পারবেন কি না তা আদালতের ব্যাপার নয় বলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধান দুই দলের মধ্যে তৈরি হওয়া বাকযুদ্ধ উভয় পক্ষের তিক্ততা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ছে কিনা’ এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকারের আচরণে রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের শালীনতা ও সৌজন্যবোধ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি নাটোর ও সিরাজগঞ্জের হত্যাকাণ্ড, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির কারণে অব্যশই সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের দূরত্ব বাড়ছে।’

দেশের বড় দুই দলের সম্পর্কের দূরত্ব দেশকে গভীর সংঙ্কটে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) সঙ্গে কি সম্পর্ক থাকবে? তারা ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছে। আমাদের নেত্রীকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। তাদের সঙ্গে কিসের সম্পর্ক?’
 
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসিত করেছেন জিয়া, খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত করেছেন যুদ্ধপারাধী ও খুনিদের, এদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি আর অবনতির কি আছে?’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বাংলানিউজকে বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হত্যা আর হত্যা। পিলখানায় কতজন সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এরপর এখন তারা বিএনপি নেতাদের  হত্যা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রান করছে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন জিয়ার স্মৃতি ধ্বংস করতে তার পরিবারকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। কোকোর প্যরোল বাতিল করার ষড়যন্ত্রেই বোঝা যায় সরকার চায় না বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো রকম রাখতে।’

সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দুরত্ব বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা একেএম রহমতউল্লাহ এমপি বাংলানিউজকে বলেন, ‘দুই দলের মধ্যে দূরত্ব যে বাড়ছে তা অস্বীকার করা যাবে না। বিরোধী দলের যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত তা তারা করছে না। তারা ভালোকে ভালো খারাপকে খারাপ না বলে সবকিছুকে ঢালাওভাবে খারাপ বললে সর্ম্পক ভালো থাকবে কিভাবে?’
 
তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারি দলের দায়িত্ব বেশি। কিন্তু বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা না করে সরকারকে ঘায়েল করার চিন্তা করলে দূরত্ব বাড়বে। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হবে। আর এ জন্য সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদেরকেই খারাপ জানবে।’
 
সবারই দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অতীত মনে রাখতে হবে।’

দুই দলের সর্ম্পক খারাপ হওয়ার জন্য বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উস্কানিমূলক বক্তব্যও অনেকাংশে দায়ী বলেও মনে করেন তিনি।

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, তাদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এগুলো সব সরকারের আমলেই হয়ে থাকে। তবে এ সরকারের সময় এগুলো একটু বেশি বলেই সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে।’

‘খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২৮ বছর পর এই বাড়ি  থেকে খালেদাকে উচ্ছেদের চেষ্টা দুই দলের সম্পর্কে আকাশ-পাতাল দূরত্ব সৃষ্টি করেছে।’

শফিউল আলম বলেন, ‘দেশের বড় দুই দলের সম্পর্ক যদি এ রকম হয় সে দেশের পরবর্তী অবস্থা কি হবে তা জনগণ এখনই উপলব্ধি করতে পারছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দল রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে গেছে, তারা জিয়া ও জিয়ার পরিবার এবং বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।’ খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়িকে ‘ইতিহাসের অংশ’ উল্লেখ করেন জাগপা সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘এই বাড়ি এখন আর কোনো ব্যক্তির বাড়ি নয়। সরকার জিয়ার স্মৃতি ও ইতিহাসকে মুছে ফেলতেই এ বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করতে চায়।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-10-22 06:29:22