[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের যাত্রা শুরু, হুদা আহ্বায়ক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৮-১০ ৭:৫৪:১৬ এএম

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। সেই একই নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

ঢাকা: প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। সেই একই নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

জিয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাবিদার বিএনপি থেকে পদত্যাগী নাজমুল হুদাকে আহ্বায়ক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে শুক্রবার।

বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ইম্পেরিয়াল হোটেলে ‘ইফতার মাহফিল’ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনএফ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইফতারের আগে তার নতুন দলের ঘো্ষণার প্রেক্ষাপটসহ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাজমুল হুদা।

অনুষ্ঠানের লাল-সবুজ ব্যানারে এক দিকে গোলবৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র এবং অপরদিকে জিয়াউর রহমানের ছবিও রাখা হয়েছে।  

নাজমুল হদা বলেন, “বিএনএফ এতো দিন একটি প্লাটফরম হিসেবে কাজ করেছে। আজ বিএনএফকে বাংলাদেশের নতুন রাজনিতক দল হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি।”

রাজনীতিতে তৃতীয় ধারার কথা শোনা যাচ্ছে, ঠিক এ সময়ে নতুন দলের ঘোষণা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার সাধ নিতে চান কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, এ ধরনের কোনো ইচ্ছা নেই তার।

“৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে আগামী নির্বাচনে যেতে পারবো” বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ২৩ মে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহবান জানিয়ে ৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। কিন্তু তার আহবানে কাজ না হওয়ায় ৬ জুন তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।

এ প্রসঙ্গ টেনে নাজমুল হুদা বলেন, “আমি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারলে কেন দলে (বিএনপি) মতামত দিতে পারবো না? পদত্যাগ করার পর নতুন দল গঠন করেছি। বিএনপি আমার প্রিয় দল। তাই বিএনপিকে ভাঙার কোনো ষড়যন্ত্র করিনি।”
 
লিখিত বক্তব্যে বিএনএফের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে নাজমুল হুদা বলেন, “১৯৭৮ সালে রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিএনএফ গঠন করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি গঠন করেন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে বিএনপিকে ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সাজিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনএফের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ এবং ১৯ দফা আজ বিলুপ্তপ্রায়। জাতির প্রয়োজনে সমস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট আবার জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ফ্রন্ট দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”  

নাজমুল হুদা বলেন, “প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনীতিতে স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টিতে এবং দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার ফলশ্রুতিতেই বিএনএফকে রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা করতে উপলদ্ধি করছি”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশের সাংবিধানিক শাসন সুনিশ্চিত করতে চাই। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ের ভিত্তিতে ক্ষমতার পরিবর্তন দেখতে চাই। নির্বাচিত সরকার ৫ বছর মেয়াদে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করবে। মাঝপথে আন্দোলন ঠিক নয়।”

“১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চেতনা থেকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হই এবং ১৯৭১ সালে মাতৃভাষা চেতনায় বাঙালি হিসেবে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হই- এই দুটো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয় সাধনের মধ্য দিয়েই জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে চাই” বলেন তিনি।

নাজমুল হুদা বলেন, “দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকার ও দলীয় সরকার প্রসঙ্গ সম্পূর্ভাবে অবান্তর। জাতীয় নির্বাচনে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোট গ্রহণ, গণনা পদ্ধতি এবং নির্বাচনের ফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা যায়, তাহলে একটি সর্বদলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে। নির্বাচনকালীন অন্য সরকারের প্রয়োজন হবে না। আওয়ামী লীগের চোখে এটাই হতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপির চোখে নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকার।”

অতি শিগগিরই ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, ভোট প্রদান ও ভোট গণনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা এবং ফল স্বচ্ছতা সম্পূর্ণ ফ্রন্টের ধ্যান-ধারণা জাতির সম্মুখে তুলে দলে এই সংসদেই তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও আশা করেন নাজমুল হুদা।

সংলাপের কথায় কাজ না হওয়ায় পদত্যাগী এই নেতা আবারও বলেন, হানাহানি, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত এবং এ লক্ষ্যে মুখোমুখি অবস্থানরত সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি করতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই।

হরতাল, বিক্ষোভ, হত্যা, নৈরাজ্য, গুম, অরাজকতাসহ রাজনৈতিক উত্তাপ প্রশমনে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।

দলীয়করণের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাজমুল হুদা বলেন, “জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার প্রশাসন, সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চাই।”

শিক্ষাঙ্গন থেকে শিক্ষক রাজনীতি উৎপাটন ও ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি শিক্ষাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ; সন্ত্রাস নির্মূল; দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত; সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত; মৌলিক অধিকার সংরক্ষন ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি মানবাধিকারসম্মত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা জানান নাজমুল।

এছাড়া তেল-গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ও দক্ষ জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করে আত্মর্মযাদা ও আত্মনির্রশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথাও বলেন তিনি।

আলোচিত পদ্মাসেতু বিএনপি আমলে ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে চার লেনের সড়ক সম্বলিত এক্সট্রাডোজ ডিজাইনে সম্ভব থাকলেও এখন কেন ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা ডিজাইনের প্রয়োজন তা নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখা চেয়ে তিনি এ সেতুর সফল বাস্তবায়ন চান।

প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে তিনি বলেন, বিচার স্বচ্ছ ও আর্ন্তজাতিকমানের হতে হবে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে জড়ানো যাবে না। একই সাথে মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলা এবং নিপীড়নের অবসান চাই।

নতুন ঘোষিত এই দলে ২১ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ১০১ জনের একটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি থাকবে জানিয়ে নাজমুল হুদা বলেণ, যা ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ৩০০টি আসনভিত্তিক কমিটি কতৃক নির্বাচিত হবে। মাঠ পর্যায়ে দলের কমিটি হবে ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক।

অনুষ্ঠানে দলের কো-অডির্নেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ব্যক্তির অধীনে গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিএনএফ একটি বিদ্রোহ। পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আজ থেকে শেষ হওয়ার যাত্রা শুরু হলো। এই দল তৃতীয় শক্তি হবে না, হবে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির কোনো কেন্দ্রীয় নেতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কৃষক মোহাম্মদ সাদেক, সিকিউরিটি পার্টির মহাসচিব মেহজাবিন ওয়াহিদ, কল্যাণ পার্টির একাংশের সেক্রেটারি মমতাজ বেগম মনি, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের এমএ জলিল, পিডিপির মিজানুর রহমান, স্বাধীনতা পার্টির মোয়াজ্জেম হোসেন খান প্রমুখ অতিথির আসনে ছিলেন।

এদিকে টাগের্ট ৬শ জনের স্থলে তার নির্বাচনী এলাকাসহ প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত হলে ইফতার বক্স সরবরাহ নিয়ে হট্টগোলে হলরুমের দরজার একটি বড় কাচ ভেঙে যায়। অনেকে ইফতার বক্স না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেরিয়ে যান।


বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এমআইএইচ/এটি/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache