ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

রাজনীতি

সিরাজগঞ্জের ট্রেন দুর্ঘটনা : গণ-তদন্ত কমিটি গঠন করবে বিএনপি

মান্নান মারুফ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-১৭ ০৩:২০:১৯ এএম
সিরাজগঞ্জের ট্রেন দুর্ঘটনা : গণ-তদন্ত কমিটি গঠন করবে বিএনপি

ঢাকা : সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে বিএনপির সভাস্থলের পাশে ট্রেনে কাটা পড়ে নেতা-কর্মীদেরর মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনায় গণ-তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



আগামী দু’এক দিনের মধ্যে এ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে।

আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার রাত সাড়ে বারোটায় বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা, আইনজীবী ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, ’৯০’এর গণ অভ্যুত্থানে শহীদ জেহাদের স্মরণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আয়োজিত গণ জমায়েতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ১১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় জড়ো হন। বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে কয়েকজন নিহত হন। বিএনপির দাবি অনুযায়ী এতে নিহত হন তাদের ৭ নেতা-কর্মী। এছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ৫ জন।

ট্রেনে কাটা পড়ে বিএনপির নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার খবরে পাশের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার মারমুখী মানুষ দুর্ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রেনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রাস্তায় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও পথচারীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শটগানের ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

দুর্ঘটনার পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন পথচারী আহত হন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জিআরপি থানা ও বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু থানায় পৃথক ৭টি মামলা হয়। এসব মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীর নেতাসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। ওইদিনই সয়দাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে বিরোধী দল বিএনপি নিহতদের স্মরণে ১২ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গায়েবানা জানাযা করে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৩ অক্টোবর সারাদেশে নেতা-কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ ও রাজধানী ঢাকার মুক্তাঙ্গন থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করে। ১৪ অক্টোবর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজন করা হয় শোকসভা।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও নিহতদের স্মরণে ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

দুর্ঘটনার পর পরই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়। এ ঘটনার জন্য দু’পক্ষের নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বাংলাদেশ সময় : ০৩০৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa