ঢাকা, শনিবার, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ শাবান ১৪৪৫

রাজনীতি

‘অগ্নিসন্ত্রাস’ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩, ২০২৩
‘অগ্নিসন্ত্রাস’ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি): তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো, বাস পোড়ানো, জনদুর্ভোগ তৈরি করা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এমন অগ্নিসন্ত্রাসের রাজনীতি নেই।



রোববার (০৩ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে যারা আগুন সন্ত্রাস করেছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনা গেলে ২০২৩ সালে পুনরায় বিভিন্ন স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটতো না। ২০১৩ সালে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মানুষের গায়ে আগুন দিয়েছে, ২০২৩ সালে তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগুন দিচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা ও রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার রাজনীতি নেই।

তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করে তারা দেশের শত্রু। তাদেরকে শুধু প্রতিহত করলেই হবে না, বরং হুকুমদাতা ও মদদাতাসহ মূলোৎপাটন করতে হবে। তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। ইসরায়েলি বাহিনীর মতো হাসপাতালে প্রবেশ করে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেয়। গত একমাসে তারা ৫৮০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। এটা কী ধরনের রাজনীতি!

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এসবের পরও কেউ কেউ তাদের সাথে আলোচনার জন্য বিবৃতি দেয়। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হতে পারে না।  

বিএনপি ও জামায়াতের এই ‘আগুনসন্ত্রাসের রাজনীতি’ প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।  

পুনরায় ক্ষমতায় এলে এদেরকে নির্মূল করার ঘোষণাও দেন তিনি।  

এতে সংহতি জানিয়ে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বিএনপি জামায়াতের ‘অগ্নিসন্ত্রাসীদের’ বিচার আরও আগেই করা দরকার ছিল। কিন্তু বিচার করতে গেলে পিটার হাসের মতো ব্যক্তিরা ফুঁসে ওঠেন। মানবাধিকারের কথা বলেন। পিটার হাসকে বলব, আগুনে পুড়ে যাওয়া এসব মানুষকে নিজের অফিসে ডেকে কথা বলুন। দেখুন, কীভাবে বিএনপি-জামায়াত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এরা দেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানাতে চায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চায়। এদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

এতে ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির হামলার উদ্দেশ্য মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করা এবং দেশের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করা। বোমা বিস্ফোরণের ফলে প্রতিনিয়ত দেশের অর্থ নষ্ট হচ্ছে। এদেরকে রুখতে হবে। নাহলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন, তা ব্যাহত হবে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ সংগঠনের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বাবুলসহ বিভিন্ন সময় আগুন সন্ত্রাসের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩, ২০২৩
এএটি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।