ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অন্যান্য দল

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির যৌথ দাবিনামা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২০
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির যৌথ দাবিনামা ......

ঢাকা: মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ দফা দাবি সম্বলিত একটি দাবিনামা পেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি এবং বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি।

বুধবার (২২ এপ্রিল) উভয় সংঘঠনের সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আনোয়ার হোসেন রেজার স্বাক্ষরিত এ দাবিনামায় এ ১০ দফা দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও একই দাবিনামা অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

দাবিনামায় উল্লেখিত দাবিগুলো হলো,

১। কৃষকের বোরো ধান কাটা, মাড়াই, নিরাপদে ঘরে তোলা, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি সার্বিক কাজে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। সেজন্য সম্ভাব্য সব জায়গায় সরকারি হার্ভেস্টার মেশিন পাঠাতে হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে এসব মেশিন দিয়ে কৃষকের ধান কাটার ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি মালিকানায় থাকা মেশিনের ক্ষেত্রে একর প্রতি সর্বোচ্চ রেট নির্ধারণ করে দিতে হবে।

২। ক্ষেতমজুরদের ধান কাটার জন্য ফসলের এলাকায় বিনাখরচে যাতায়াতের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপণা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষেতমজুরদের জন্য সংক্রমণ পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্তসহ ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমা, ঝুঁকি ভাতার সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৩। ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুর পরিবারগুলোকে সেনা সহায়তায় চিহ্নিত করে তাদেরকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে ৩ মাস বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। তাদের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষক যেন তা দিতে পারে সেজন্য কৃষককে আগেভাগেই সরকার ঘোষিত অনুদানের টাকা ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে।

৪। মজুরদের সকল ঋণ/কিস্তি (মহাজনী, এনজিও, ব্যাংক ঋণ) মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে এই মজুরদেরকে সরকারি নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৫। প্রতিটি ইউনিয়নে শস্য ক্রয়কেন্দ্র খুলতে হবে এবং চলতি বোরো মৌসুমে ২০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এবং ১০ লক্ষ টন চাল চাতাল মালিকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দামে ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। গুদাম সংকট নিরসনে অগ্রিম  টাকা দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের গোলায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অস্থায়ী ফসল সংরক্ষণাগার স্থাপন করতে হবে। মানুষের দুর্যোগের সুযোগে ফসল, গরু-ছাগল, জমি-জমা-সম্পত্তি স্বাভাবিক দামের চেয়ে কম দামে কিনে নেয়া (ডিসট্রেস সেইল) বেআইনী ঘোষণা করে তা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।

৬। বর্তমান সংকটকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারী সবজি চাষি, পোল্ট্রি, ডেইরি ও গবাদিপশু খামারিকে রক্ষায় জনপ্রতি দশ হাজার টাকা সরাসরি সহায়তা দিতে হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য ২% সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭। সবজি জাতীয় কৃষিপণ্য সরকারি উদ্যোগে বাজারজাত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিম-দুধ ইত্যাদি ত্রাণ-সাহায্য-রেশনের সাথে যুক্ত করে জনগণের মাঝে বিতরণ করতে হবে।

৮। ত্রাণ-সাহায্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। দূর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৯। গ্রামাঞ্চলে কর্মরত সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহণ ও ক্ষেতমজুরদের সুরক্ষায় মাস্ক, পিপিই ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।

১০। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র, খাদ্যগুদাম ও সবজিচাষ অধ্যুষিত অঞ্চলে হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২০
আরকেআর/এবি 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa