ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

মুক্তমত

সমাজ রূপান্তর একটা বড় স্বপ্নের মতো ছিলো

সাক্ষা‍ৎকার/মুক্তমত | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৮, ২০১৫
সমাজ রূপান্তর একটা বড় স্বপ্নের মতো ছিলো সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর এমেরিটাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জন্ম ১৯৩৬ সালে। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক এই মানুষটি নানা বিষয়ে নিরসল কাজে করে যাচ্ছেন।

তার কাজের মধ্যে আছে ‘নতুন দিগন্ত’ নামে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পত্রিকা সম্পাদন, যা বারো পেরিয়ে তেরো বছরে পদার্পণ করেছে। এই সময়, পত্রিকা প্রকাশনা, গণমাধ্যম ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। এই কথোপকথনে ছিলেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ফিচার সম্পাদক ফারুক আহমেদজুননু রাইন

ফারুক আহমেদ: চারিদিকে যেসব সমস্যা বর্তমান, এর সমাধান কী? সমাধান আদৌ আছে কি?

জুননু রাইন: আমাদের গভীরতাগুলো বোঝা যাচ্ছে। আমরা কেন সবসময় তুলনামূলক সত্য দ্বারা এতোবেশি আবৃত যে, নিজেকেই আর আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। প্রত্যেকটা মানুষ যদি তার যে শিক্ষা, তার জ্ঞান—যেটাকে আমরা মননশীলতা বলি—মিনিমাম থাকতো, তাহলে মানুষ আমাকে গণমাধ্যম কী দিলো তা না দেখে, নিজের বিবেকের কাছ থেকেও কিছু শিখতো। এখন এতোটা অসহায় মানুষ যে মগজ আর পায়ের নিচে মাটিটা নেই। একটার পর একটা ঘটনা ঘটতে ঘটতে আমি যে এদেশের মানুষ, এই দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা-কর্তব্য অনুভব করছে না বা এগুলো বোঝার সুযোগ পাচ্ছে না। মানে টাইম নাই, মানে এরপর যুদ্ধ, হঠাৎ করে দারিদ্র্য…

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: বুঝলাম, তাহলে তোমরা কি ভাবছো না যে, এর থেকে প্রতিকারের উপায় কী?

ফারুক: হ্যাঁ স্যার, আমরা আপনার কাছে এটাই শুনতে চাই, একটা ভালো পথ বা একটা প্রতিকারের উপায়।

সিইচৌ: না, তোমরা চিন্তা করবে তো। আমরা সবসময় সেবাই করে যাবো। যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু যন্ত্র পায়ে পায়ে এভাবে আগে পদানত করতে পারেনি। আজকে যেমনটি করছে। তাহলে এর উৎসটা কি? এটার কন্ট্রোলটা কার, বা এটার বাইরে যাবো কি করে আমরা?

ফারুক: স্যার, এই যে ট্র্যাকে আমরা আছি এর থেকে বের হওয়ার উপায় কী? মাঝে মাঝে মনে এর থেকে মুক্ত হতে চাই, কিন্তু হওয়ার ক্ষেত্রে যেটা দরকার, মানে আমার দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে—ফলে চাইলেও আমরা এর থেকে বের হতে পারছি না।

সিইচৌ: না। আমি তো জানি যে, তুমি এই জায়গাটাতেই আসবে। কারণ তুমি নিজেই এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এর বাইরে তোমাকে চিন্তা করতে হবে যে, তুমি কি সেবকই রয়ে যাবে, নাকি এর উপর তুমি কর্তৃত্ব করবে? মানে তুমি একা না, সকলে মিলেই। তাহলে আমরা এর উপরে থাকবো, নাকি নিচে থাকবো? চাকরিটা তো তোমাকে করতেই হবে। এই দেখো, পুলিশ কি জানে না, সে যে মানুষ পিটাচ্ছে এটা খারাপ? কিন্তু তাকে তো চাকরিটা করতে হচ্ছে। মানে এ পিটানোটাই তার কাজ। এটা তার জীবিকার সাথে জড়িত। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবেই কি আমরা দাসত্বে থাকবো, নাকি আমরা কর্তৃত্বে যাবো? তো এই প্রশ্নটা কোথায় উঠছে, কে ভাবছে কিভাবে ভাবছে এটাও আমাদের জানা দরকার। নিশ্চয়ই অন্য দেশের মানুষ এসব সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে। তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে কি হচ্ছে না, এটা একটা জরুরি প্রশ্ন। তোমাদের এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এটা তো খুব গভীর দাসত্ব। মনে হচ্ছে এটা তো আরো অ্যাডভান্স করছে।

ফারুক: যখন চিন্তা করি যে মুক্ত হবো, কিন্তু সেই পথ বা পথ খুঁজে পাওয়ার সাহসটা পাওয়া যাচ্ছে না।

সিইচৌ: তো প্রথম চোটে তো যন্ত্রের দাসত্ব তো আনন্দদায়কই মনে হয়। আমার কাছে এসব যন্ত্রপাতি যারা নিয়ে আসে, তারা আমাকে দেখায়, বলে—এ যন্ত্রটা আছে। এখন তো ধাপে ধাপেই আসছে। প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। এটা একটা ব্যস্ত রাখার জিনিস। এটা এমন একটা হুজুগ তৈরি করে দিলো যে, তা ঘিরে বাণিজ্য চলছে। বাণিজ্য মানে খবর দেয়াও বাণিজ্য। এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। তোমাদেরকেই ভাবতে হবে। অন্য দেশে কী হচ্ছে, অন্য দেশে এসব নিয়ে কী সমাধান চিন্তা করা হচ্ছে তা নিয়ে তোমাদেরকেই ভাবতে হবে, খোঁজ নিতে হবে।

প্রথম ধাক্কাতেই তো একটা চমৎকার অভিজ্ঞতা, একটা উত্তেজনা, এরকম একটা জিনিস (মোবাইল) পেয়ে গেছি। শিশুরা যখন নতুন খেলনা পায়, কী আনন্দ পায়, কতো কতো খেলনা!

ফারুক: প্রাথমিক একটা উত্তেজনা তো থাকেই যে, আমি একটা আপডেট জিনিস পেলাম। একটা আপডেট টেকনোলজি পেলাম।

সিইচৌ: হ্যাঁ, একটা প্রতিযোগিতা আছে। আমার তো অন্য কাজ আছে। ধরো যে আমি অতোসব কাজ জানি না। কিন্তু রিটায়ার্ড করেছি। আমার তো সামাজিক দায়িত্ব আছে। আমি একটা পাঠাগার তৈরি করতে পারি। বা সমাজের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে পারি, জানতে বুঝতে পারি। তরুণদের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে পারি। এগুলা না যদি আমি ঘরের মধ্যে খেলাধুলা করি, মানে ধরো বাচ্চাটাও খেলাধুলা করতেছে, আমিও খেলাধুলা করছি। সব মানুষই খেলাধুলা করছে। এটা তো আসলে ভয়ঙ্কর একটা ব্যাপার। বিজ্ঞানের প্রথম দিকে যখন যন্ত্র আসলো, তখনই মনে করা হলো মানুষ খুব যান্ত্রিক হয়ে যাবে। মানুষের স্বাধীনতা থাকবে না।

ফারুক: স্যার আপনার পত্রিকাটা নিয়ে একটু কথা বলতে চাচ্ছি। পত্রিকাটার তো বারো বছর হলো—এক যুগ পূর্তি হলো।

সিইচৌ: হুম। বারো বছর পার হয়ে গেলো। তেরো বছরে পড়লো।

জুননু: স্যার, আমরা তো আপনার কথাগুলো শুনলাম। অবশ্য এগুলো আপনার মনের কথা। বা এ চিন্তুগুলো তো আপনার জীবনেরই অংশ। তো এ বিষয়গুলোই কি আপনার পত্রিকায় তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। বা মানে আপনি কিভাবে আপনার পত্রিকায় এসেছে…

ফারুক: মানে পত্রিকাটি বের করার পেছনে চিন্তার জায়গাটি…

সিইচৌ: হ্যাঁ চিন্তার জায়গাটি। আমাদের পত্রিকাটি যেখান থেকে বের করেছি এর নাম দিয়েছি সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র। মানে পত্রিকাটি যেখান থেকে প্রকাশ করা হয় এর নাম, সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র। ওইটাই আমরা প্রথমে স্থাপন করেছি। তারই একটি অংশ পত্রিকাটা। রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রটা একটা বড় স্বপ্নের মতো ছিলো। এর জন্য আমরা অনেকগুলো কাজ করবো তেমনই ইচ্ছা ছিল। এর নামের মধ্যে যে ইঙ্গিতটা আছে সেটাই হলো এর লক্ষ্য। অর্থাৎ যে সমাজ রূপান্তরিত হচ্ছে একভাবে— আমাদের ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে। কিন্তু এ সমাজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে আমরা খুব প্রভাব ফেলতে পারি না। যে কথাটা বললাম— আমরা কি এর দাসত্ব করবো নাকি এর উপর কর্তৃত্ব করবো। তো কর্তৃত্ব করার জন্য তো চিন্তা করা দরকার। আমরা ভাবলাম যে, এই চিন্তাগুলো রূপান্তর হচ্ছে, তো এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি আমরা কোনো প্রভাব ফেলতে পারি। এর লক্ষ্য হলো, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার। আমরা যদি সেদিকে কিছুটা চোখ ফেলতে পারি, তো সেটার জন্যই এই কেন্দ্র বানালাম।

আমরা চিন্তা করলাম যে, যদি আমরা কোনো প্রভাব ফেলতে পারি, তাহলে আমাদেরকে কতোগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে হবে। এই কাজগুলোর মধ্যে একটা ছিলো পত্রিকা করা। একটা ত্রৈমাসিক পত্রিকা করা। তারপর আমরা ভাবলাম যে, আমরা কিছু আলোচনা সভা করবো। বিভিন্ন বিষয়ে-ইস্যুতে সমাজে ও রাষ্ট্রে যেসব হচ্ছে সেসব বিষয়ে আমরা মত প্রকাশ করবো। আমরা বক্তৃতার ব্যবস্থা করবো। আমরা কিছু বই প্রকাশ করবো। প্রয়োজনীয় বই। একটা পাঠাগার গড়ে তুলবো। যেটা একটা নতুন ধরনের পাঠাগার হবে। এখানে একটা আর্কাইভসও থাকবে। যেখানে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের দলিলপত্র থাকবে। কেবল একাত্তরের না। ধারাবাহিকভাবে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের দলিলপত্র থাকবে।

ফারুক: ৪৭ থেকে ধারাবাহিক...

সিইচৌ: না, আরো আগের থেকে। যেমন ১৭৫৭ থেকে। এগুলো আমাদের ধারণার মধ্যে আছে। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা আছে। তো এগুলো মিলিয়েই আমরা কাজ আরম্ভ করলাম। প্রথম কাজটাই হলো পত্রিকাটা বের করা। এটা হলো সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রের প্রথম কাজ। তারপর এটা বার করলাম। এটা বার করার পর বারো বছর পার হয়ে গেলো। এখন আমরা তেরো বছর শুরু করলাম।

আমরা কেবল একটা বই প্রকাশ করেছি। মাওলানা ভাসানির জীবনী। আরো বই প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিলো। আমরা অনেক অনেক আলোচনা সভা করেছি। গোল টেবিল আলোচনা-বক্তৃতা এগুলো করেছি। মূল কাজ যেটা ধারাবাহিকভাবে করতে পেরেছি সেটা হলো পত্রিকাটা প্রকাশ করা। এই পত্রিকাটা প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে আমরা ওই চিন্তাগুলো আদান প্রদান করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে মূল ফোকাস বা দৃষ্টিটা ছিলো প্রবন্ধের উপর।

জুননু: মননশীল লেখার উপরে...

সিইচৌ: হুম। মননশীল প্রবন্ধের উপর। আমরা গল্প-কবিতা, এমনকি উপন্যাস ও নাটকেও তা প্রকাশ করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্যটা ছিলো চিন্তাশীল প্রবন্ধ লিখবো। তো এ পত্রিকাটা করে এর জন্য আর আমরা কাউকে সম্মানি দিতে পারি না। তো সকলেই সে বিষয়টায় সতর্ক হয়েই লিখেন। আমরা যারা করি, তারা নিজেরা স্বেচ্ছাসেবার জায়গা থেকেই করেন। দু একজনকে অবশ্য আমাদেরকে সম্মানি দিতে হয়। তো সামাজিক উদ্যোগে এ পত্রিকা চলছে। এখন এর যে উৎপাদন হচ্ছে তাতে  এ পত্রিকার খরচ পড়বে ১২০ টাকা। আগে এটা ছিলো ১০০ টাকা। আমরা লিখেছি ৫০ টাকা। শুরুতে ছিলো ৩০, এরপর ৪০।

জুননু: কত কপি বের হয়? মানে কতো কপির হিসেবে ১২০ টাকা পড়ছে?

সিইচৌ: আমাদের প্রথম সংখ্যা ছাপছিলাম ৫০০ কপি। আমরা তখন ভাবছিলাম এর চেয়ে বেশি যাবে না। চাহিদা এর বেশি হবে না। তারপর দেখলাম, খুব চাহিদা হলো। এরপরের সংখ্যা আমরা ১ হাজার করলাম। তারপর ধাপে ধাপে আমরা আড়াই হাজার ছাপলাম। আড়াই হাজার ছাপানোর পর আমরা দেখলাম যে, খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। মানে যতো বেশি ছাপাবো খরচও ততো বেশি পড়ছে। তো সেজন্য তাতে করে আমরা এখন ২ হাজার ৩শতে নেমে এসেছি। এছাড়া আর রাখারও জায়গা নাই। ভাবছিলাম, অতিরিক্ত সংখ্যাগুলো রেখে দেবো। কিন্তু রাখার সুযোগ আর জায়গা নেই। আমাদের বিতরণ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। আমরা ঠিকানাও দেই।

আবার অনেকে আছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাদের বইয়ের দোকান নেই তারা স্বেচ্ছায় আমাদের বই নিচ্ছেন। এমন অনেক গ্রাহক শুভানুধ্যায়ী আছেন। আমাদের প্রধান আয়টা হয় বিজ্ঞাপন থেকে। আর কিছু শুভানুধ্যায়ী আছেন যারা এটার জন্য টাকা দেন। এভাবেই এটা চলছে।

জুননু: স্যার, টাকার কারণেই তো পত্রিকা ছাপানো কমিয়ে ফেলা বা রাখার ব্যাপারটা এক ধরনের সীমাবদ্ধতাই বলা যায়, এটা ওভারকাম করার ইচ্ছা নিশ্চয়ই আছে...

সিইচৌ: আমরা কতোটা পারবো জানি না। পত্রিকারও তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এভাবে তো আমরা বারো তেরো—এক যুগ পার করলাম। এরপর হয়তো আমাদেরকে অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে।

ফারুক: সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রের একটা কাজ ছিলো পত্রিকাটা বের করা। এছাড়া আরো যেসব কাজ ছিলো, চিন্তাভাবনা ছিলো সেগুলোর অগ্রগতি কেমন?

সিইচৌ: আমরা যারা একসাথে কাজটা শুরু করেছিলাম দেখা যাচ্ছে অনেকেই যোগাযোগ রাখছে না। যোগাযোগ রাখাটা বেশ কঠিন। আমাদের এই ঢাকা শহরে আমরা যে বৈঠক করবো, আলোচনা করবো উদ্যোগ নেবো সেগুলোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপর অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকের বয়স হয়েছে। আমরা তো বয়ষ্ক লোক। কিন্তু আমরা তরুণ সমাজকে এখানে আনতে পারিনি। তো এটা আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা। তাদের হাতে উত্তরাধিকারী হিসেবে এটা তুলে দেয়া বা এটার কাজটাকে আরো সম্প্রসারিত করা এটা আমরা করতে পারিনি। সমাজ রূপান্তর কেন্দ্র যেভাবে স্বপ্নটা দেখেছিলো সেভাবে হয়নি। এটার উপলব্ধিটা হলো, তরুণ সমাজকে আনতে হবে। সেই তরুণদেরকেই দায়িত্বটা নিতে হবে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন আমরা সকলেই বয়ষ্ক ছিলাম। অনেকেই অবসর নেয়ার পরে এসেছে। আমি তো অবসর নেয়ার পর এটাতে কাজ শুরু করেছি। তো মাঝখানে একটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। আমাদের এখানে তরুণরা যারা লিখে তাদের জন্য তো আমরা জায়গা তৈরি করে দিতে পারিনি। জায়গার অভাবে। জায়গা বলতে রূপক অর্থে যদি বলো—শব্দার্থে যদি বলো সে অর্থে জায়গা নাই। আমাদের একটা চিলেকোঠা ছিলো সেখানে আমরা অফিস করতে পেরেছি। নাইলে তো আমাদেরকে অফিস ভাড়া করতে হতো। অফিস করতেই অনেক টাকা চলে যেতো।

তো তরুণরা যদি এই উদ্যোগটা নেয়, তার সাথে যদি বয়ষ্কদের নেয়, তাহলে কাজটা আরো ভালো হবে। কাজটা আরো এগোবে।

অনুলিখন: শাহাদাৎ তৈয়ব 

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, জুনয়ারি ০৮, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।