ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

অপার মহিমার রমজান

নাজাত পেতে কে কী করেছি, ভাবুন তো একবার

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯০০ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০২০
নাজাত পেতে কে কী করেছি, ভাবুন তো একবার ছবি প্রতীকী

আখিরাতই আমাদের একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা। সেই ঠিকানা আরামের হবে না- আজাবের; তা কারও জানা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যা দুনিয়ার সব অবৈধ স্বাদকে নষ্ট করে দেবে।’

বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবন আর কিছুই নয়, খানিক সময়ের সমষ্টিমাত্র। সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জীবনকালের বিস্তৃত পরিধি।

কিন্তু অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, সময়ের একটি তিলক পরিমাণ মুহূর্তও মানুষের নিজস্ব নয়। মানুষের যিনি শক্তিমান সৃষ্টিকর্তা- যিনি সব কিছুরই একচ্ছত্র অধিপতি, তিনিই সময়ের নিরঙ্কুশ মালিক। মানুষের কাছে সময়ের অংশ আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। পরকালে কঠিন দিনে প্রত্যেকটি মানুষকে প্রভুর সামনে তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। একচুল পরিমাণ ছলনা কিংবা গোঁজামিলের কোনো প্রকার সুযোগ সেদিন মিলবে না।

চলছে সিয়াম সাধনার মাস। আমরা ইতোমধ্যে রহমত, মাগফিরাতের ২০ দিন পার করেছি। নাজাত-প্রক্রিয়ার শেষ দশ দিন চলছে। নাজাত পেতে কে- কী করেছি, একবার ভাবুন! রোজা রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অন্যতম। অন্যদিকে, রমজানের রোজা রাখা মুসলমানদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। ইরশাদ করা হয়েছে, পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের জন্যও একই বিধান ছিল অর্থাৎ, রোজা পালন শুধু কোরআনের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়নি। তার আগের আসমানী কিতাবেও সিয়াম সাধনা বা রোজার বিধান ছিল।

পবিত্র আল কোরআনের সূরা বাকারাহ-এর ১৮৫ নম্বর আয়াতে মাহে রমজানের রোজা পালনের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে লোকসকল এ মাসটি পাবে সে যেন রোজা পালন করে। ’

তবে, সিয়াম সাধনায় রোজা রাখলেই চলবে না, সব ধরনের অন্যায় এবং হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এইমাস সবরের মাস। আর সবরের বিনিময় জান্নাত।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, রোজা আমার জন্য। আর আমি নিজেই ইহার প্রতিদান দেবো।

ইবাদতের সওয়াব এবং পুরস্কারের কথা মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করলেও রমজানের রোজার পুরষ্কার কি- হবে তা স্পষ্ট করে বলেননি। তার দেওয়ার ভাণ্ডার অফুরন্ত। তিনি যাকে যতটা ইচ্ছা ততটা দেবেন ।

এ ধরাধামে মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সেরা সৃষ্টি মানবজাতি। যারা ‘আশরাফুল মাকলুকাত' বা সৃষ্টিকূলের সেরা জীব বলে অভিহিত। আল্লাহপাক মনুষ্য জাতিকে সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে দুটি কর্তব্য পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যার একটি হলো তাঁর ইবাদত আর অপরটি ‘খিদমাতে খালক’ বা সৃষ্টির সেবা।

মনে রাখতে হবে, পার্থিব জীবন মানুষের জন্য পরীক্ষাগার স্বরূপ। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করা, ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করা প্রভৃতি সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মহোজ্বল দৃষ্টান্ত।

এই রমজান অল্পতে অধিক সাওয়াব হাসিল করার মাস। একমাস মেহনত করে নিজের নেকির পাল্লা ভারি করা এবং গুনাহর পাল্লা হালকা করার মাস। অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদত এই মাসের নফল ইবাদতের সমকক্ষ। এই মাসে নেকির পরিমাণ ৭০ থেকে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দেবেন আল্লাহ। যে নিজেকে শুদ্ধ করে সে সফলকাম হবে আর যে ব্যক্তি নিজেকে কলুষিত করলো, সে ব্যর্থ হতোভাগা।

রোজা সুস্থ ও সবল মানুষের জন্য ফরজ। রোজার রুহানি ফজিলত, রহমত এবং বরকত প্রাপ্তির জন্য ধর্মীয় বিধিবিধান পালন অত্যাবশ্যক। অথচ, আফসোস যেখানে বলা হচ্ছে- ‘কোনো মানুষের ঈমান সঠিক হতে পারে না যতক্ষণ সে সৎ ও বিশ্বাসী না হবে। ’ আমাদের দেশে অন্য মাসগুলোতে যে হারে মানুষ ঠকানো হয় পবিত্র রমজানে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

হজরত মা’মার (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘জনগণের জীবিকা সংকীর্ণ করে যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে সে বড় অপরাধী। আর জেনে রাখো সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে। ’

এছাড়া, খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মানুষ ঠকানো বড় ধরনের গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলো না। আর জেনে বুঝে সত্য গোপন করবে না। তোমরা খুব ভালো করেই জানো সত্য কী। ’ ( সূরাহ বাকারাহ : ৪২ আয়াত)।

যারা এমন কাজ করে রাসূল (সা.) তাদের নিজ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেননি। যারা ওজনে কিংবা মাপে কম দেয় তাদের জন্য ধ্বংসের বার্তা রয়েছে।

শেষাংশে এসে বলতে চাই, শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয়- সমস্ত বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেও বাংলাদেশে কাজ করার চেয়ে কাজ দেখানোর প্রবণতা বেশি। দশজনকে ত্রাণ দেওয়ার জন্য ১০০ লোকের এলাহি আয়োজন, ফটোসেশন ও তারপর সেই ছবি গণমাধ্যম-সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশের উন্মাদনা। বোধ হয় আমাদের কিছুই বদলাবে না। একটি ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবী যেখানে অচল তখনও আমাদের দেশের অনেকে পাল্লা দিয়ে অপকর্ম করে যাচ্ছেন। জানি না তাদের কবে সঠিক বুঝ আসবে?

লেখক: কবি, গল্পকার ও কথা সাহিত্যিক।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৫৬ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০২০
এইচএডি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa