ঢাকা, রবিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯
bangla news

রাঙামাটির পুরনো মসজিদটি ‘মডেল মসজিদ’ হতে যাচ্ছে

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৬-০২ ১১:৩৪:৫৩ এএম
রাঙামাটির পুরনো মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

রাঙামাটির পুরনো মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

রাঙামাটি: পাহাড়-নদী আর সবুজারণ্যে মিশে একাকার নৈস্বর্গিক জেলা রাঙামাটি। রাঙামাটির ইতিহাস-ঐতিহ্য বৈচিত্রময় রূপ ধারণ করেছে বিভিন্ন কারণে। এখানে বহু জাতিসত্তার বসবাসের কারণে এ অঞ্চল সারাদেশের তুলনায় ভিন্নতা পেয়েছে। পাশাপাশি এখানকার লোকজ সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে করেছে সমৃদ্ধশালী।

ইতিহাস প্রাচীন হলেও এ অঞ্চলকে চড়াই-উৎরাই পেরোতে হয়েছে নানা সময়ে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ তৈরি করলে রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী পুরনো শহর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ৬২ পরবর্তী সময়ে পাহাড়কেন্দ্রিক যে শহরটি গড়ে উঠেছে, সেটি সবাই রাঙামাটি হিসেবে বেশ ভাল চিনে। তবে  এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা এ শহরকে নতুন রাঙামাটি শহর বলে থাকেন।

কাপ্তাই হ্রদে রাঙামাটির পুরনো শহর ডুবে ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আবারো গড়ে উঠতে থাকে সবকিছু। রাঙামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষে ৪৩ শতক জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে ‘আপার রাঙামাটি জামে মসজিদ’।

রাঙামাটির পুরনো মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

বর্তমানে আপার রাঙামাটি জামে মসজিদটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এবং প্রথম জামে মসজিদ। ৬২ পরবর্তী পাকিস্তান আমলে নির্মিত একতলা বিশিষ্ট জামে মসজিদটিতে বর্তমানে ৫০০ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

কিন্তু পুরনো এ মসজিদটিতে এত বছরেও আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। অনেক মসজিদ পরবর্তী সময়ে নির্মিত হওয়ার পরও আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে। কিন্তু জেলার সবচেয়ে প্রাচীন এ মসজিদটি তেমন কোনো সরকারি-সুযোগ সুবিধা পায়নি। ফলে পুরনো স্থাপনা নিয়ে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা চলে আসছে।

রাঙামাটির পুরনো মসজিদে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ছবি: বাংলানিউজ

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ করেন, জেলার মধ্যে প্রথম এবং পুরনো এ জামে মসজিদটিতে জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মুসল্লিরা মসজিদের উঠানে নামাজ আদায় করেন। মসজিদটি আধুনিক স্থাপনায় গড়ে না উঠায় মসজিদটির পরিধি বড় করা যাচ্ছে না। এছাড়া ওজুখানাটি সেই পুরনো আমলের। তাদের দাবি মসজিদটি শিগগির আধুনিক স্বয়ংসম্পন্ন মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

মসজিদটির বর্তমান খতিব মৌলভী মো. আবু তালহা বাংলানিউজকে জানান, ২০১২ সাল থেকে এ মসজিদে কর্মরত রয়েছি। রমজানে তিনজন হাফেজ তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। প্রথম ৬টি রোজায় দেড় পারা করে পড়া  হলেও  ৬ রোজার পর থেকে এক পারা করে পড়া হয়েছে। শনিবার (০১ জুন) দিনগত রাতে তারাবির খতম শেষ করা হয়।

রাঙামাটির পুরনো মসজিদের জায়গায় হবে মডেল মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, কষ্ট হলেও এ মসজিদে ৫০০ লোক এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদের পরিধি না থাকায় মসজিদের উঠানে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বাবুল বাংলানিউজকে জানান,  আমাদের মুসল্লিদের আর কষ্ট করতে হবে না। বর্তমান সরকারকর্তৃক ঘোষিত যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে জানানো হয়েছে আমাদের  মসজিদটি মডেল মসজিদে পরিণত হবে। এটা শুধু মসজিদ নয় একটি কমপ্লেক্স।  চারতলা বিশিষ্ট এ কমপ্লেক্সে মসজিদ, ইসলামিক সাংস্কৃতিককেন্দ্র, হাজিদের প্রশিক্ষনকেন্দ্র, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, বিদেশী অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা, ১০০ জন নারী এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রাখা হবে। কমপ্লেক্সে লিফট ব্যবস্থাও থাকবে। সম্ভাব্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে  কমপ্লেক্সেটি নির্মাণ করা হবে।

তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, গণপূর্ত বিভাগ রাঙামাটি শাখার সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) জহির রায়হানের গাফিলতির কারণে আমাদের কমপ্লেক্সেটি প্রথম ধাপের প্রাক্কালে নির্মাণ করাতে পারিনি। বর্তমানে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শিগগির কমপ্লেক্সটির কাজ শুরু করা হবে বলে আশা করছি।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১১৩৪ ঘন্টা, জুন ০২, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রমজান
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অপার মহিমার রমজান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-06-02 11:34:53