bangla news

রমাজনের শেষ ১০ দিনে আমলের বিশেষ গুরুত্ব

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৮ ৫:০০:০০ পিএম
ছবি : প্রতীকী

ছবি : প্রতীকী

ইবাদত-বন্দেগি ও পুণ্য অর্জনের মাস রমজান। এ মাসকে তিন ধাপে ভাগ করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশক। শেষ দশকে ইবাদতের সবিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শেষ দশকের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘যখন রমজানের শেষ ১০ রাত আসত, তখন রাসুল (সা.) কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন। আর পরিবার-পরিজনকেও তিনি জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১০৫৩)

শেষ দশকের সূচনা হয় ইতিকাফ দ্বারা। রমজানের পুরোপুরি রহমত ও বরকত লাভের জন্য ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রিয় নবী (সা.) ইতিকাফ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামও করেছেন, তাই ইতিকাফ করা সুন্নাত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন, এরপর তাঁর স্ত্রীরাও ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৮৬৮; মুসলিম, হাদিস নং: ২০০৬)

এ সময় তিনি আল্লাহর ইবাদতে মসজিদে নির্জন বাস করতেন। তার ইতিকাফের জন্য মসজিদে একটি তাঁবু পাতা হতো। ইতিকাফকালীন তিনি রোগী দেখতে বের হতেন না, জানাজায় যেতেন না এবং নারীদের সংস্রব ত্যাগ করতেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজনের মতো জরুরি কিছু ছাড়া তিনি তাঁর ইতিকাফস্থল ত্যাগ করতেন না।

ইতিকাফের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) লিখেছেন, ‘মসজিদের ইতিকাফ হচ্ছে হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পবিত্রতা, চিত্তের নিষ্কলুষতা এবং চিন্তার পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতা। ফেরেশতাকুলের গুণাবলি অর্জন এবং লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য লাভসহ সব ধরনের ইবাদতের সুযোগ লাভের সর্বোত্তম উপায়। এ জন্য রাসুল (সা.) নিজে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করেছেন এবং তার বিবিরাসহ সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এই সুন্নতের ওপর মৃত্যু অবধি আমল করেছেন।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা : ২/৪২)

রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে পবিত্র শবেকদর। শবেকদর হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। অর্থাৎ এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সাওয়াব হতে পারে, এই রাতের ইবাদতে তার চেয়েও বেশি সাওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের কারণেই পুরো রমজান তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ হয়েছে। আর পবিত্র কোরআনও অবতীর্ণ হয়েছে এই শবেকদরে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। অবশ্যই আমি সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৩-৪)

রমজানের বিগত দিনগুলো যাদের অবহেলায় কেটে গেছে, এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরে নেওয়ার। মুক্তির অবারিত সুযোগ পেয়েও নিজেদের মুক্ত করে নিতে পারল না, তাদের চেয়ে হতভাগা আর কে হতে পারে?

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৯ ঘন্টা, মে ২৮, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রমজান
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অপার মহিমার রমজান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-05-28 17:00:00