bangla news

নবাবগঞ্জের ভাঙা মসজিদ নিয়ে নানা আলেখ্য

শেখ সালাহ্ উদ্দিন বাচ্চু, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৭ ১০:২০:৩৪ এএম
ভাঙা মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ভাঙা মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: ঢাকার নবাবগঞ্জে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে প্রায় ৪শ’ বছরের প্রাচীন ভাঙা মসজিদ। মসজিদটির বর্তমান নাম বান্দুরা শাহী (ভাঙ্গা) মসজিদ। তবে লোখমুখে এখনো ভাঙ্গা মসজিদ নামেই পরিচিত। মসজিদটির অবস্থান নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে নতুন বান্দুরা এলাকায়।

পুরাতন সেই মসজিদটি নতুনভাবে সংস্কারের ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দৃশপট পাল্টে নতুনত্ব এসেছে। ১৬৫ ফুট উচ্চতার একটি মিনারও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদ। এর মধ্যে দুই শতাংশ জমির উপর রয়েছে মূল ভবন।

মসজিদের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে গেলে বেরিয়ে আসে নানা কথা। অনেকে বিশ্বাস করেন ভাঙ্গা মসজিদটি ‘গায়েবি মসজিদ’। এর মূল ভবনটি মাটির নিচ থেকে উঠেছে। অনেকেই মনের আশা পূরনে মসজিদে মানত করে থাকেন। আগতদের বিশ্বাস ভাঙ্গা মসজিদের কিছু মানত করলে আল্লাহর রহমতে সেই আশা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাসেই মসজিদে মুসল্লিদের আগমনও বেশি। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন নবাবগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী দোহার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ আশেপাশের উপজেলার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। 

স্থানীয়দের  ধারণা ও ভাষ্য মতে, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নির্মিত। ১৬১০ সালে ভারত বর্ষের মুঘল বংশের দিল্লীর সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ছিলেন ইসলাম খান চিশতি। সুবেদার ইসলাম খান চিশতি বিভিন্ন প্রয়োজনে দিল্লী হইতে যমুনা নদী দিয়ে নৌবিহার নিয়ে পাবনা জেলা হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মানিকগঞ্জ হয়ে ইছামতি নদী দিয়ে ঢাকায় (জাহাঙ্গীর নগর) যাতায়াত করতেন। সেই সময় রাত যাপন ও ইবাদত করার জন্য আনুমানিক ১৬১৫ সালে নদীর পাশেই মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি।

তখন মসজিদের পাশ্ববর্তী কোনো বসতি ছিলো না। পুরো এলাকাই ছিলো বনাঞ্চল। ১৮৮০ সনে হিন্দু জমিদারেরা এই সমস্ত বনাঞ্চল পত্তন নেন। তখন এখানে হিন্দুরা বসতি স্থাপন করার জন্য বনাঞ্চল কাটা আরম্ভ করেন। বনের গাছ কাটতে কাটতে এখানে একটা মসজিদ ঘর দেখতে পান। যার উপরের কিছু অংশ ভাঙ্গা। তখন থেকেই এই মসজিদের নাম হয় ভাঙ্গা মসজিদ বা গায়েবি মসজিদ।

একসময় মসজিদের দেখাশোনার জন্য দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় আলফু ফকির, দুদু মীর, আবেদালী মীর, গোপাল মাদবর, মৈজদ্দিন সিকদার, গহের আলী খন্দকার প্রমুখ।

সেই সময় আবু মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে  মসজিদের মুতাওয়াল্লি বা তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। সিএস রেকর্ডে মসজিদের পক্ষে তার নামই রয়েছে।
 
মসজিদ কমিটির সদস্যরা বাংলানিউজকে জানান, মসজিদ সংস্কারে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আগত মুসল্লিদের অনুদানেই সম্পূর্ণ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে।    

মসজিদের প্রায় ৩০ বছরের কোষাধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মসজিদে আগত মুসল্লিদের দানে মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়েই কোটি টাকা ব্যয়ে মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতি শুক্রবার নামাজ শেষে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করা হয়।

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপে মসজিদের ইমাম মুফতি মতিউর রহমান বলেন, মানুষ আল্লাহ ওপর বিশ্বাস করেই ভাঙ্গা মসজিদে ইবাদত করতে আসে। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে এই মসজিদে। আমরা যথাসাধ্য তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করি।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১০১৮ ঘন্টা, মে ২৭, ২০১৯
এমএমইউ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অপার মহিমার রমজান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-05-27 10:20:34