ঢাকা, রবিবার, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯
bangla news

অপরাধ দমনে রমজানের ভূমিকা

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২২ ৩:৪৮:৩৩ পিএম
ছবি : প্রতীকী

ছবি : প্রতীকী

পৃথিবী আধুনিকতায় যত উৎকর্ষ সাধন করছে, অপরাধের সংখ্যা তত বাড়ছে। সাধারণত অপরাধ দমনে দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। একটি আইন ও অপরটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিন্তু বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই দুই পন্থায় সমাজ থেকে অপরাধ দমন বা নির্মূল সম্ভব নয়। বস্তুত এভাবে হয়তো সম্ভব নয় বলেই বিশ্বে দিন দিন অপরাধ ও অপকর্ম বাড়ছে। আইন প্রণয়নে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি কাজে আইনকে ব্যবহার করা হয়।

অপরাধমুক্ত পৃথিবী গঠনে ইসলাম অনন্য নিয়ম-নীতির সাক্ষর রেখেছে। এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তিনটি ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। এক. আইন (কোরআন ও সুন্নাহ)। দুই. তাকওয়া (খোদাভীতির মাধ্যমে আইনের প্রতি মানুষকে অনুগত করে তোলা)। তিন. আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইতিহাস সাক্ষী, এই ব্যবস্থাপত্র শতভাগ সফল। হয়েছিল। কারণ এতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আইন প্রণয়নের পরই মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই প্রক্রিয়া আইন বাস্তবায়নে শতভাগ সফল হয়েছিল। সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াত নাজিল করে যখন মদ নিষিদ্ধ করা হলো, তখন রাসুল (সা.) হাফেজ সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন, গলিতে গলিতে আয়াতটি পাঠ করার জন্য। আইন প্রণেতার ভয় এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে তখন কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক ছাড়াই সাহাবায়ে কেরাম মদ ত্যাগ করলেন। মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা শুনে যার হাতে মদের গ্লাস ছিল তিনি তা ছুঁড়ে ফেললেন, যার মুখে মদ ছিল তিনি তা ফেলে দিয়ে কুলি করলেন, যিনি ওই সময় মদ পানরত ছিলেন, তিনি গলায় আঙুল দিয়ে বমি করে পেট থেকে মদ বের করার চেষ্টা করলেন। যার বাড়িতে মদের কলসি ছিল, তিনি লাথি মেরে তা ভেঙে দিলেন। মদিনার রাস্তায় মদ প্রবাহিত হয়ে গেল। (ইবনে কাসির : ৭/৯০৯)

রোজা অপরাধ দমনের দ্বিতীয় পন্থা কার্যকর করে তোলে। রোজার পরিপূর্ণ ফজিলত পেতে হলে পাপ বর্জন করতে হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে না পারবে, তার পানাহার ত্যাগ করা আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি : ৫/২২৫১)

রোজার মাধ্যমে মানুষের সততা ও নিষ্ঠা বৃদ্ধি পায়। রোজাদার ব্যক্তির সৎ ও পুণ্যবান থাকার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও সততার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রোজাদার ব্যক্তি রোজা রেখে চরম ধৈর্য, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতার পরিচয় দেয়। এখানে তার আল্লাহভীতি ও নৈতিক শক্তির স্ফুরন ঘটে। এ মাসে পরনিন্দা, মিথ্যা, অহেতুক কথা ও কাজ বর্জন করার কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রোজা থাকে, সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের মতো কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৪, মুসলিম, হাদিস : ১১৫১)

রমজানে বৈধভাবে উপার্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কেননা হারাম বস্তু খেয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হয় না। এভাবেই রোজা ও রমজান অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

লেখক: আলেম, গ্রন্থাকার-অনুবাদক

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৭ ঘন্টা, মে ২২, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রমজান
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অপার মহিমার রমজান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-05-22 15:48:33