bangla news

৩ কাতারের ঐতিহাসিক খাঁনবাড়ি মসজিদে চলছে তারাবি

মুশফিক সৌরভ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-১৭ ৮:২৭:৪০ পিএম
ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া। সেখানে অবস্থান ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদের। ঝালকাঠি সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ মসজিদটি।

এক গম্বুজবিশিষ্ট বড় ঘরটিতে বর্তমানে নামাজ আদায় করে থাকেন মুসল্লিরা। যেখানে ৩ কাতারে ২১ জন নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে জুমা ও রমজানের তারাবি নামাজে বেশ লোক হওয়ায় মুসল্লিদের জন্য মসজিদের সামনে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ১৮ শতকের প্রথমার্ধ্বে আসর খাঁ ও কিশোর খাঁ ইসলাম প্রচারের জন্য ঝালকাঠির রাজাপুরে আগমন করেন। পরবর্তীতে কিশোর খাঁ একগম্বুজবিশিষ্ট তিনটি মসজিদ নির্মাণ করেন। 

খানবাড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে ক্রমানুসারে দক্ষিন দিক থেকে উত্তর দিক পর্যন্ত রয়েছে ছোট থেকে বড় আকারের তিনটি পাকা ঘর (মসজিদ)। যার প্রত্যেকটি একটি কড়ে গম্বুজ ও প্রতিটি ঘরের চারকোনে ৪ টি মিনার। গম্বুজ ও মিনারের উপরে রয়েছে অলংকৃত শীর্ষচূড়া।

ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

এছাড়াও মসজিদগুলোর বাহিরের দেয়াল জুড়ে বিভিন্ন নকশা সজ্জিত করা রয়েছে। প্রতিটি মসজিদঘরের পূর্ব দেয়ালে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে।  যার প্রত্যেকটি প্রবেশপথে তিন ধাপের সিঁড়ি রয়েছে।  অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত এপ্রবেশপথগুলোর বাহির দেয়ালেও অলংকরণ রয়েছে।  

এদিকে বড় মসজিদ ঘরটির উত্তর ও দক্ষিন দিকে অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত দুটি জানালার মতো অংশ রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমদিকে তিনটি মিহরাব রয়েছে। পাশাপাশি বাকি দেয়ালগুলোতে ছোট আকারের ছোট ৬ টি মিহরাব রয়েছে। এছাড়া মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি কবরস্থান। পূর্ব দিকে প্রাচীন আমলের ঘাট বাধানো পুকুর।

ঐতিহ্যবাহী খাঁনবাড়ি জামে মসজিদের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. নোমান খান বাংলানিউজকে বলেন, খান বাড়ি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে তিনটি একই রকমের মসজিদ রয়েছে।  তবে জনশ্রুতি রয়েছে প্রতিষ্ঠার পর বড় মসজিদটিতে নিয়মিত সবাই মিলে নামাজ আদায় করতেন। আর একইরকম দেখতে ছোট অপর দুটি মসজিদে ঈমামসহ বুজুর্গ ব্যক্তিরা বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে মসগুল থাকতেন। যদি মাঝারি ও ছোট আকারের মসজিদ দুটি এখন ব্যবহার করা হয় না।

মসজিদের ভেতরে মিহরাবের জরাজীর্ণ অবস্থা। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় বাসিন্দা মঈনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি দেখতে অনেকই আসেন। অনেকে এখানে নামাজ আদায়ও করেন। তবে সবেচেয়ে ভালো দিক, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এ মসজিদের ভেতরটা শীতলই থাকে।

তিনি আরো বলেন, এখানে একই রকম দেখতে যে তিনটি মসজিদের ঘর রয়েছে এর একেকটির আলাদা নাম (আল্লাহ, মুহাম্মদ ও ফাতেমা) রয়েছে বলেও জানাগেছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদটির ঘরগুলোর প্রত্যেকটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময় : ২০২৬ ঘন্টা, মে ১৭, ২০১৯
এমএস/এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রমজান
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অপার মহিমার রমজান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-05-17 20:27:40