ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

অফবিট

ইচ্ছেমতো গতিতে গাড়ি চালানো যায় যে রাস্তায়!

অফবিট ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২১ ঘণ্টা, অক্টোবর ৫, ২০১৬
ইচ্ছেমতো গতিতে গাড়ি চালানো যায় যে রাস্তায়!

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম নর্থটাউন অঞ্চলের লাল কেন্দ্রস্থলের ধূলি-ধূসর একটি মহাসড়ক দেশটির একমাত্র অংশ, যেখানে বর্তমানে আইনত যতো দ্রুত গতিতে ইচ্ছা গাড়ি চালানো যায়।   কিন্তু এ সুযোগ থাকছে না আর বেশি দিন।

চলতি বছরেই হয়তো শেষ হবে এ সুযোগ।

সড়কটিতে প্রায়ই গরু বা ক্যাঙ্গারুর পারাপার, বিরাট লরি চলাচল, খারাপ আবহাওয়া প্রভৃতি কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসাকর্মীদের হিসাবে, তিন বছরের জাতীয় গড়ের ভিত্তিতে প্রতি বছর ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৫ জন মানুষ মোটরগাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন।

স্থানীয় নর্থটাউন আঞ্চলিক সরকার তাই আলিস স্প্রিংগস থেকে খাঁড়ি বরাবর সড়কটিতে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩শ কিলোমিটার পুনর্বহালের পরিকল্পনা করছে।

কিন্তু এ পদক্ষেপ নর্থটাউনের কয়েকজন বাসিন্দার পাশাপাশি স্পোর্টস গাড়ি কোম্পানি র্যাংকলেডকে উদ্বিগ্ন করছে, যারা সড়কটিতে উচ্চ গতিসীমায় গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত।      
 
নর্থটাউনের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মাইকেল গানার বলেন, দুর্ঘটনার আধিক্যের কারণে জীবন রক্ষার স্বার্থে খোলা গতিসীমার পরীক্ষাটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘ডাক্তার, নার্স, শল্যবিদ ও পুলিশের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের এ নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা মনে করেন, খোলা গতিসীমা বহাল থাকা উচিৎ নয়।  
 
তিনি বলেন, এ পরীক্ষার সমাপ্তির পক্ষে সিংহভাগ অঞ্চলবাসীও ভোট দিয়েছেন।  

কিন্তু ইউরোপীয় গাড়ি কোম্পানি পোরশে, যারা নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ান গুল্মের মধ্যদিয়ে যানবাহন চালিয়ে পরীক্ষা করে, তারা এতে খুশি নয়।

পোরশের মুখপাত্র পল এলিস বলেন, তারা আমাদের দর্শনীয় দৃশ্যাবলী, ল্যান্ডস্কেপ ও সড়কসহ উত্তর টেরিটরিতে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিসীমার মধ্যে থেকে সবকিছু করার একটি সুযোগ নিতে বলেছেন।

‘আমি বলছি কি, সড়কে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আমরা একটি যৌক্তিক আলোচনায় বসতে পারি। কিন্তু বলা হচ্ছে, গতি সবচেয়ে বড় ইস্যু। আমি মনে করি না যে, সেটি সঠিক। ’

গাড়ি কোম্পানি এখনও যেকোনো গতিতে পরীক্ষামূলক যানবাহন চালাতে পারবে। কিন্তু আগাম একটি পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।

আলিস স্প্রিংগসের পিটার হনডো বলেন, কেন্দ্রীয় অস্ট্রেলিয়ার জীবন যারা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারেন না, তারাই এ সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিলেন।

‘আপনি দুই ঘণ্টা ড্রাইভ করতে পারলেও অন্য পথের আরেকটি গাড়িকে চলতে দেখবেন না। সেখানে কোনো ট্রাফিক আউট নেই। এটি শহরের রাস্তার মতো নয়। ’

তিনি বলেন, কিছু স্পোর্টস গাড়ির ড্রাইভার তাদের পা নিচে রেখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অধিকাংশ চালক ছিলেন টেরিটরির বাইরের বাসিন্দা, যারা এ থেকে বি পেতে উচ্চগতিতে ঘুরছিলেন।

‘এটা ডারউইন থেকে ১ হাজার ৬শ কিমি, এটা আডিলেড থেকেও ১ হাজার ৬শ কিমি। তারা যেখানে আছেন, সেটা যে দুর্গম অঞ্চল, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ‘
 
বাংলাদেশ সময়: ২১২৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৪,২০১৬
এএসআর/এএ

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa