ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

চুরি করে বালু বিক্রি, রাজস্ব হারায় সরকার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২২
চুরি করে বালু বিক্রি, রাজস্ব হারায় সরকার

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ফুলজোড় নদী ড্রেজিং প্রকল্পের উত্তোলিত বালু রাতে আঁধারে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনা চুরির নামান্তর। নিলামে বিক্রির জন্য রাখা বালুর বেহাত হওয়ায় সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঙালি-করতোয়া-ফুলজোড়-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পূণঃখনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ফুলজোড় নদী খনন করা হচ্ছে। ২১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ ড্রেজিং শুরু হয় ২০১৯ সালে। নীতিমালা অনুযায়ী ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ি করার জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। অবশিষ্ট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা হবে।

সম্প্রতি উল্লাপাড়ার ঘাটিনা ও চর ঘাটিনা এলাকার উত্তোলিত বালু জোলাহাটি, সনতলা ও তারাবাড়িয়া মৌজায় স্তূপ করে জরিপ চালায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তীতে এসব বালু বিক্রির জন্য নিলাম কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তার আগেই স্তূপ করে রাখা বালু রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি রাতেই স্তূপ করা বালু তিনটি ভেকু মেশিন দিয়ে তুলে নেওয়া হয়। ১০/১২টি ট্রাকে করে রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত এক মাস ধরে এ কর্মকাণ্ড চলছে। গত তিনদিন এ চুরি বেড়েছে।  

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ও পৌর কাউন্সিলর আজাদ হোসেনের নেতৃত্বে বালু বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন। বালু ভর্তি ট্রাকগুলো উল্লাপাড়া পৌরসভার সামনে দিয়ে বিনা বাঁধায় চলাচল করে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এলে দুয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়। এভাবেই প্রতিদিন বালুগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে যেসব কৃষকের জমির উপর বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার কাউন্সিলর আজাদ হোসেন বলেন, আমরা বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নই। তবে আমার বেশ কয়েকটি ট্রাক চলে সেখানে। যেখানে বালু স্টক করে
রাখা হয়েছে। সেখানে আমাদের জমি রয়েছে বালু বিক্রি হেলে তার পঞ্চাশ শতাংশ আমাদের দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ বালু উত্তোলনে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ প্রতিবেদনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কে তার নাম বলে, সেটি দেখতে বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, স্তূপ করা বালু বিক্রির জন্য নিলাম কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে উপজেলা প্রশাসনের কাউকে রাখা হয়নি। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কমিটিতে রয়েছে। বালু বিক্রির বিষয়ে মাঝে মধ্যেই আমরা অভিযোগ পাই। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেই। এ ছাড়া এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, পানি সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি বালু নিলামের ব্যবস্থা নেবে। বালু বিক্রির ঘটনা দুয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা অভিযানও চালাচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনকেও বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মোবারক হোসেন বলেন, নদী খনন প্রকল্পে উত্তোলিত বালুর অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। বালুর পরিমাণ, মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম কমিটিও করা হয়েছে। রাতের আঁধারে বালু বিক্রির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন দেখবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২২
এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa