ঢাকা, সোমবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৮ সফর ১৪৪৪

জাতীয়

৫ দিনের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার শতাধিক পুকুর-ঘের

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২২
৫ দিনের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার শতাধিক পুকুর-ঘের

ভোলা: টানা ৫ দিনের জোয়ারে ভোলার ৩টি ইউনিয়নের শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।

যে কারণে চরম সঙ্কটে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্থ পুকুর ও ঘেরের মালিকরা।  

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ দিন ধরে মেঘনার পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এতেই অতি জোয়ারে তলিয়ে গেছে ভোলা সদরের রাজাপুর, ধনিয়া ও ইলিশা ইউনিয়নের শতাধিক পুকুর ও ঘের। পানিতে ভেসে গেছে তাদের অর্ধকোটি টাকার মাছ।  

আর্থিতভাবে লাভের আশায় এসব মানুষ পুকুর ঘেরে মাছ চাষ করেছিলেন চাষীরা। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে। এখন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সে চিন্তায় দিশেহারা চাষীরা।

কন্দকপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ ঘেরের মালিক মো. মতিন বলেন, জোয়ারের পানিতে আমার ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। জোয়ারে ভেসে গেছে তাজুল ইসলামের ৫০ হাজার টাকার মাছ।  

তিনি জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়েছেন কিন্তু সব ভেসে গেছে।  

ক্ষতি হয়েছে নুর নাহার বেগম ও মনিরুল ইসলামের পুকুরও। তারা জানালেন, লাভের আশায় কিছুদিন আগে তারা মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু সেই মাছ ভেসে গেছে। লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের।

একই কথা জানালেন খাদিজা বেগম রোজিনা আক্তার। তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যে মাছ বিক্রির কথা ভাবছিলাম, কিন্তু জোয়ারে সব শেষ। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো জানি না।  

রাজাপুর ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হারুন বলেন, পুরো রাজাপুর ইউনিয়নের অর্ধশত ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত। জোয়ারের পানির এতো চাপ বেড়েছে রাস্তাঘাটও ভেঙে গেছে। পুকুর, ঘের ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  

রাজাপুর ইউনিয়নের কন্দকপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চারদিকে পানি, বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট ফসলের ক্ষেতসহ বিস্তীর্ন এলাকা ডুবে আছে। এমন চিত্র দেখা বোঝা যাচ্ছে না এখানকার কোনটি পুকুর বা ঘের ছিলো। জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা যেন ভাসছে। এমনচিত্র শুধু কন্দকপুর গ্রামের নয় একই চিত্র মেদুয়া, চর মোহাম্মদ আলী, দাউয়া, রামদাসপুর ও শ্যামপুর গ্রামে। ডুবে আছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘর-ভিটা তলিয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরে রান্নার চুলা জ্বলছে না। বেশিরভাগ রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রামবাসীকে।

উপকূলের এসব মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস ছিলো মাছ চাষ। এখন সেই মাছই যেন তাদের দুঃখের কারণ। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত সহায়তার দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

পূর্ব ইলিশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, গত ৪ দিনের জোয়ারে আমার এলাকার বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে আমনের বীজতলা এবং পুকুর-ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দ্রুত সরকারি সহায়তা দরকার।  

এ ব্যাপারে ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, জোয়ারে অনেক পুকুর এবং ঘেরের মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তালিকা তৈরী করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। তাদের জন্য যদি কোনো সহায়তা আসে তাহলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২২
এসএ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa