ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

বাস ডাকাতির ঘটনায় আরও ৪ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১০ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০২২
বাস ডাকাতির ঘটনায় আরও ৪ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

টাঙ্গাইল: কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ১০ আসামির মধ্যে আরও চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (৭ আগস্ট) রাতে ১০ জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে সোমবার (৮ আগস্ট) রাতে তাদের টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাত জন আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেফতাররা বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বাসের নারী যাত্রীকে রাজা মিয়া দুইবার এবং রতন, আওয়াল, নুরনবী ও মান্নান একবার করে ধর্ষণ করেছেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে আসলাম তালুকদার (১৯), রাসেল তালুকদার (২৫), নাইম সরকার (১৯) ও আলাউদ্দিন (২৪) আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তাই মঙ্গলবার বিকেলে তাদের টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহম্মদ জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা হাসানাত আসলাম তালুকদারের, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ রাসেল তালুকদারের, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম নাইম সরকারের এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমান মো. আলাউদ্দিনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে মাহমুদুল হাসান ওরফে রতন (২২), আব্দুল মান্নান (২০), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), মো. সোহাগ (১৯), জীবন প্রামানিক (২০) ও খন্দকার হাসমত আলী ওরফে দীপুকে (২৩) গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক ফারজানা হাসানাত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে নারাগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাস সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে যাত্রীবেশি ডাকাতরা গাড়িতে এঠেন। টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর তারা অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে যাত্রীদের টাকা পয়সা, মুঠোফোন, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেন। এ সময় বাসের এক নারী যাত্রী গণধর্ষনের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদি হয়ে বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও ধর্ষনের মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার ভাড়াবাসা থেকে ডাকাত দলের সদস্য বাস চালক রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার (৫ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে মো. আওয়াল ও নুরনবীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শনিবার (৬ আগস্ট) এই তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০২২
এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa