ঢাকা, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ আগস্ট ২০২২, ২০ মহররম ১৪৪৪

জাতীয়

শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেতো

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১২ ঘণ্টা, আগস্ট ৫, ২০২২
শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেতো সালমান এফ রহমান

ঢাকা: বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল একটি অনুপ্রেরণার নাম। তার মধ্যে ছিলো অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলী।

তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত।  

শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এই স্মরণসভায় আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে ভিডিওতে ধারণকৃত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা শোকের মাসে শেখ কামালের জন্মদিন পালন করছি, তবে ১৫ আগস্টের কারণে উদযাপন করতে পারছি না। শেখ কামাল ঢাকা কলেজে আর আমি নটরডেমে পড়তাম। আমরা ধানমন্ডিতে থাকতাম। সে কারণে সব সময় আমাদের দেখা হতো।

তিনি বলেন, শেখ কামাল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ সাল আন্দোলনের সময় ছিলো। তখন ঘটনা বোঝার জন্য আমরা বন্ধুরা শেখ কামালের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তবে ৭ মার্চের ভাষণের পর ২২ -২৩ মার্চের দিকে আমরা বুঝতে পারলাম কি ঘটতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর শেখ কামাল আমাকে বললো, সে আবাহনী ক্লাব করতে চায়। মোহেমেডানের চেয়ে ভালো ক্লাব করতে চায়। কারণ, প্রতিযোগিতা থাকলে, খেলা আরো ভালো হবে। তারপর আমরা আবাহনী ক্লাব শুরু করলাম।

সালমান এফ রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে ব্যবসায় বাণিজ্যের অনেক সুযোগ আসে। তখন শেখ কামালকে অনেক দেশি বিদেশি ব্যবসায়ী নানা প্রস্তাবও দিয়েছিলো, তবে সে কোনো সুবিধা নেয়নি। আজ শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত।

 

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কম্বোডিয়াতে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের বৈঠকে অংশগ্রহণের কারণে স্মরণ সভায় সরাসরি অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারেননি। ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, শেখ কামাল ২৬ বছরের জীবনে অনেক কিছু দিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বৈষম্যহীন ও উন্নত সোনারবাংলা গড়তে কাজ করতে চাই। তরুণদের শেখ কামালের আদর্শে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, শোকের মাসেই শেখ কামাল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার জন্মবার্ষিকী আমরা পালন করে থাকি। শেখ কামাল ২১ বছরের তরুণ তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের অনিশ্চয়তায় রেখে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। তার অনেক গুণ ছিলো। তিনি ক্রিকেট খেলতেন, সেতার বাজাতেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিলেন। এমন প্রতিভার তরুণ আজ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি ছাত্রলীগের একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন। কোনো পদ পদবী চাননি। তবে সেই শেখ কামালকে নিয়েও এদেশে অপপ্রচার হয়েছে। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যুরো প্রধান এম শফিকুল করিম। তিনি বলেন, শেখ কামাল আমার ক্লাসমেট ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ছেলে হলেও তার কোনো অহঙ্কার ছিলো না। তার আচরণ ছিলো খুব সাধারণ মানুষের মতো। আর তিনি ছিলেন খুব সাহসী।

স্মরণসভায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, শহীদ শেখ কামাল এক অনুপ্রেরণার নাম। তার মধ্যে ছিল অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলী। তিনি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান রেখেছেন। আমরা জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৫, ২০২২
টিআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa