ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

জাতীয়

পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনায় ট্রেনের যাত্রী অর্ধেক!

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১১৭ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২২
পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনায় ট্রেনের যাত্রী অর্ধেক!

খুলনা: সপ্তাহখানেক আগেও ভিন্ন চিত্র ছিল খুলনা রেল স্টেশনে। কাঙ্ক্ষিত টিকিটের জন্য যুদ্ধে নামতে হতো যাত্রীদের।

টিকিট পেতে তদবির করতে হতো প্রভাবশালীদের মাধ্যমে। কালোবাজারিদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে অনেকে কিনতো টিকিট। ঈদ এলে গভীর রাতে টিকিট কাউন্টারের সামনে মাদুর বা বিছানার চাদর পেতে জায়গা দখল করতে হতো। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পাল্টে গেছে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা চিরচেনা সেই চিত্র।  

কারণ ২৫ জুন পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর পর ৩০ জুন পর্যন্ত গত ৫ দিনে খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। যাত্রীদের মালপত্র নিয়ে কুলিরা টানাহেঁচড়া করে নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মজুরি আদায় করত। তবে সেই চিত্রও পাল্টে গেছে খুলনা রেল স্টেশনের।

খুলনা রেলস্টেশনের বুকিং সহকারীরা জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়াতে ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা বেশ কমে গেছে। এখন সড়কপথে যাতায়াতে সুবিধা হওয়ায় ঢাকাগামী যাত্রীরা আর আগের মতো ট্রেনে আসছেন না।

খুলনা রেল স্টেশন টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, খুলনা-ঢাকা রুটে সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন চলাচল করে। ২৫ জুন ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসের এসি বাথ বরাদ্দ সিট ৬৪টি বিক্রি হয়েছে ৬৩টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৭২টি বিক্রি ৭২টি, শোভন চেয়ার ১৮৫টি বিক্রি হয়েছে ১৮৫টি। একইদিনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস এ এসি বাথ বরাদ্দ ৪০টি বিক্রি ৪০টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৯০টি বিক্রি ৯০টি, শোভন চেয়ার বরাদ্দ ১৫৫টি বিক্রি ১৫৫টি।

২৬ জুন চিত্রা এক্সপ্রেসের এসি সিট বরাদ্দ সিট ৬৪টি বিক্রি হয়েছে ৪১টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৭২টি বিক্রি ৫৫টি, শোভন চেয়ার ১৮৫টি বিক্রি হয়েছে ১২০টি। একই দিন সুন্দরবন এক্সপ্রেস এসি বাথ বরাদ্দ ছিল ৪০টি বিক্রি ৩৬টি। এসি চেয়ার ৯০টি বিক্রি ৯০টি। শোভন চেয়ার বরাদ্দ ১৫৫টি বিক্রি ১৫৫টি।

২৭ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল। একইদিনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস এসি বাথ বরাদ্দ ছিল ৪০টি বিক্রি ২৮টি। এসি চেয়ার ৯০টি বিক্রি ৯০টি। শোভন চেয়ার বরাদ্দ ১৫৫টি বিক্রি ১৫৫টি।

২৮ জুন চিত্রা এক্সপ্রেসের এসি সিট বরাদ্দ সিট ৬৪টি বিক্রি হয়েছে ৪৪টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৭২টি বিক্রি ৬৩টি, শোভন চেয়ার ১৮৫টি বিক্রি হয়েছে ১৮১টি। একইদিনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল।

২৯ জুন চিত্রা এক্সপ্রেস এর এসি সিট বরাদ্দ সিট ৬৪টি বিক্রি হয়েছে ১১টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৭২টি বিক্রি ৩১টি, শোভন চেয়ার ১৮৫টি বিক্রি হয়েছে ১৭৬টি।

৩০ জুন চিত্রা এক্সপ্রেসের এসি সিট বরাদ্দ সিট ৬৪টি বিক্রি হয়েছে ১৬টি, এসি চেয়ার বরাদ্দ ৭২টি বিক্রি ৩১ টি, শোভন চেয়ার ১৮৫টি বিক্রি হয়েছে ৬৬ টি।

একইদিনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস এসি বাথ বরাদ্দ ছিল ৪০টি বিক্রি ৩০টি। এসি চেয়ার ৯০টি বিক্রি ৯০টি। শোভন চেয়ার বরাদ্দ ১৫৫টি বিক্রি ১৫৫টি।

খুলনা রেল স্টেশনের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর শামীমুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ভালো হয়ে গেছে। যার কারণে ঢাকায় যাওয়ার সময় কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ট্রেনের ওপর। ট্রেনে প্রায় ৫০ শতাংশ যাত্রী কমেছে।

এদিকে পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে মাত্র চার ঘণ্টায় ঢাকায় আসা-যাওয়া করছে মানুষ। সেতু চালুর দিন থেকে মোটামুটি এই সময়ের মধ্যে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন পরিবহন। যাত্রী বাড়ায় নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি নামিদামি কোম্পানি এই রুটে চালু করেছে তাদের বিলাসবহুল বাস।

গ্রীন লাইন পরিবহনের রয়্যালের মোড়ের কাউন্টারের বুকিং সহকারী রিপন হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় খুলনা-ঢাকা রুটে যাত্রীর তিন চার গুণ চাপ বেড়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১১৬ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২২
এমআরএম/এনএইচআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa