ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

জাতীয়

পদ্মা সেতু পার হয়ে বিয়াই বাড়ি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৫৫ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০২২
পদ্মা সেতু পার হয়ে বিয়াই বাড়ি ছবি: ডিএইচ বাদল

পদ্মা সেতুর জাজিরা টোলপ্লাজা থেকে: শরীয়তপুরের বাসিন্দা নূরী বেগম। ছয় মাস আগে দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ।

এখন তিনি পদ্মা সেতু পার হয়ে ঘুরতে যাবেন বিয়াই বাড়ি।

রোববার (২৬ জুন) পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজায় কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় এ দম্পতিকে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পার হতে দেখা যায়।

টোলপ্লাজায় নূরী বেগম বলেন, ছয় মাস আগে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। মেয়ের বিয়ে হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। আজ সেতু পার হয়ে বিয়াই বাড়ি যাচ্ছি।

এদিকে ব্রিজ উদ্বোধনের পর থেকেই জাজিরা প্রান্তে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রোববার ভোর থেকেই সেতুর দুই পাড়ে ভিড় জমান দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ছিল তাদের বাধভাঙা উল্লাস।

বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি নিয়ে সেতুর জাজিরা প্রান্তে আসেন সাধারণ মানুষ। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে সেতু পার হয়ে আবার ফিরে আসেন জাজিরা প্রান্তে। দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বহুদূর পার হয়ে ভোরে পদ্মা সেতু এলাকায় পৌঁছান।  

মাদারীপুর থেকে আসা জোবায়ের হোসেন বলেন, শুধু পদ্মা সেতু দেখার জন্যই আমরা বন্ধুরা ১০টি মোটরসাইকেলে করে এসেছি। সেতুতে ওঠে খুবই ভালো লেগেছে।  

রোকন আহমেদ নামে এব ব্যক্তি বলেন, আমি পরিবার নিয়ে সেতু দেখতে এসেছি। এমন বড় একটা স্থাপনা ঘুরে দেখে মন ভালো হয়ে গেছে। সেতুতে ওঠার অনুভূতিটা আসলেই অন্যরকম।  

এদিকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জারি করেছে একটি গণবিজ্ঞপ্তি। এতে জানানো হয়- সেতুতে ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। এছাড়া পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষার্থে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার, পদ্মা সেতুর ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা/হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ। তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদি), হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়িযোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না। গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া ও ৫.৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না। সেতুর ওপরে কোনো ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

তবে রোববার সেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের এসব নির্দেশনা ভাঙতে দেখা গেছে। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে সেতুতে নেমে ছবি তুলেছেন। আবার অনেককে টিকটক ভিডিও বানাতেও দেখা গেছে। এছাড়া দর্শনার্থীরা হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরো সেতু। এসব ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেককে জরিমানাও করেন।

অবস্থার পরিবর্তন আনতে বিকেলে সেতুতে পেট্রলিং শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো গাড়িকে সেতুতে থামতে দেননি তারা। এতে সেতুতে ওঠে নিয়ম না মানার ঘটনা কমে আসে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, পদ্মা সেতুর ওপরে গাড়ির গতিসীমা সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটারের বেশি রাখা, হেলমেট ছাড়া ও মোটরসাইকেলে তিনজন যাত্রা করাসহ সেতুর ওপর গাড়ি থামিয়ে ছবি তুললে গুণতে হবে জরিমানা। নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থাও। তবে যেহেতু আজ প্রথম দিন সেহেতু এ বিষয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপর থেকে এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি মাওয়া প্রান্ত থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত পর্যন্ত আসেন। উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার থেকে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০১৫৩ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০২২
এইচএমএস/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa