ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৫ জিলহজ ১৪৪৩

জাতীয়

বাগেরহাট পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া সাড়ে ৪ কোটি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৭ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২২
বাগেরহাট পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া সাড়ে ৪ কোটি অন্ধকারাচ্ছন্ন বাস টার্মিনাল

বাগেরহাট: বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল না দেওয়ায় বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৬ টাকা। এজন্য বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেড, বাগেরহাট।

 

সোমবার (২৩ মে) বিকেলে বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাস শ্রমিক, কর্মচারী ও যাত্রীরা।  

২০১৬ সাল থেকে বাগেরহাট পৌরসভার মালিকানাধীন জেলার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো।  

অন্যদিকে বাগেরহাট বাস মালিক সমিতি বলছে, বিদ্যুৎ বিল বাবদ তারা নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছেন পৌরসভাকে। বাগেরহাট পৌরসভা বলছে, পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হবে।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পক্ষে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়রের নামে হিসেবে (অ্যাকাউন্টে) ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৬ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। শুধু বাগেরহাট বাস টার্মিনাল নয়, বাগেরহাট পৌরভবন, স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন ধরনের ১৮টি হিসেবে বাগেরহাট পৌরসভার কাছে আরও প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ওজোপাডিকোর। পৌরসভার বাইরেও বাগেরহাট জেলা পুলিশের কাছে ২৫ লাখ ১৯ হাজার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চার লাখ ২১ হাজার, পিসি কলেজে তিন লাখ ২০ হাজার, বাগেরহাট মেডিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুই লাখ ২২ হাজার, রেলরোড জামে মসজিদে তিন লাখ ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ৪৪ হাজার টাকা বিল বকেয়া রয়েছে ওজোপাডিকোর।  

বাসশ্রমিক সঞ্জিব বিশ্বাস বলেন, বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ডে এক দিন বাস রাখলে ঢাকার পরিবহনের জন্য ৮০ টাকা এবং লোকাল পরিবহনের জন্য ৫০ টাকা দিতে হয়। এখানকার টয়লেটগুলোও আমাদের টাকা দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। তাহলে কেন টাকার জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে? আসলে আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, আমাদের টাকার কোনো দাম নেই।

শ্রমিক মো. মাহতাব হোসেন বলেন, রাত ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের বাস ছাড়ে বাগেরহাট স্ট্যান্ড থেকে। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের দাবি জানান তারা।

বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ বিলের জন্য প্রতি মাসে পৌরসভার মার্কেটিং অফিসারের কাছে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু করোনাকালে এ টাকা নিয়মিত দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েক হাজার বাসের শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভোগান্তি লাঘবে অতিদ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাট বাস টার্মিনালে যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল বাবদ টাকা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য হিসেবে যে সাড়ে চার কোটি টাকার বকেয়া বিল রয়েছে, ওই টাকার বিপরীতে মাঝে মধ্যে কিছু টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া জুন মাসের শেষে রাজস্ব খাতের হিসেব করে বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ওজোপাডিকো, বাগেরহাটের সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকের কাছে ওজোপাডিকোর প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বকেয়া গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অনেকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং কারও কারও বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার পরিমাণ অনেক বেশি, তাদের বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়ও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করছি, যাতে দ্রুত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে পারি।

২০০২ সালের অক্টোবরে বাগেরহাট জেলা শহরের গোবরদিয়া মৌজায় বাস টার্মিনাল স্থাপন করে পৌরসভা। বাগেরহাট পৌরসভা প্রতি বছর বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দু’টি পাবলিক টয়লেট ইজারা দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করে। বাস টার্মিনাল সংলগ্ন অর্ধশতাধিক দোকান ভাড়া বাবদও টাকা পায় বাগেরহাট পৌরসভা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩১ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২২
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa