ঢাকা, শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে অনশন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৫ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে অনশন

কুমিল্লা: স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে অনশন করেছেন এক নারী। শুক্রবার (১৩ মে) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নারায়নসার গ্রামে সিআইডিতে কর্মরত কনস্টেবল সোহেল রানার বাড়িতে ওই নারী অনশনে বসেন।

 

অভিযুক্ত সোহেল রানা বরগুনা জেলা সিআইডি পুলিশে কর্মরত।  

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ১০ বছর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার সময় সোহেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাদের যোগাযোগ ছিল। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে। এক বছর আগে রাজধানীর রামপুরা কাজী অফিসে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তারা।  

বিয়ের সময় সোহেল রানা জয়পুরহাটে চাকরি করতেন। এ সময় জয়পুরহাটে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে ঢাকা ও সর্বশেষ দুই মাস আগে বরগুনা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন।  

গত ২৬ এপ্রিল সোহেল স্ত্রীকে রেখে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে এসে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না ওই নারী। এদিকে কয়েকদিন আগে চিঠির মাধ্যমে ওই নারীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান সোহেল। পরে তিনি শুক্রবার সকালে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে সোহেল রানার গ্রামের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।  
 
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সোহেলের আরও ৮টি বিয়ের খবর তার কাছে এসেছে। সোহেলের বাড়িতে এসে জানতে পারেন তার প্রথম স্ত্রী এই বাড়িতে থাকেন। প্রথম স্ত্রীর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স ১১ বছর।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী বরগুনা সিআইডি কার্যালয়ে সোহেলের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  

সোহেলের মা জেবুন্নেছা বাংলানিউজকে জানান, সোহেলের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিন দিন আগে তার ছেলে তাকে ফোন করে জানান, ‘বড় বিপদে পড়েছে। একটি মেয়ে বিপদে ফেলে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছে। বর্তমানে সেই মেয়েটিকে ডিভোর্স দিয়েছে। ’

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
 
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা সিআইডি পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, ‘কনস্টেবল সোহেলের বিরুদ্ধে এক নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি ছুটিতে যান। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৭ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
ইআর/এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa