ঢাকা, বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘ক্ষমতাসীনরা দেশকে লুটের বাজারে পরিণত করেছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৭ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
‘ক্ষমতাসীনরা দেশকে লুটের বাজারে পরিণত করেছে’

ঢাকা: ক্ষমতাসীনরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো বাংলাদেশটাকে একটা লুটের বাজারে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

শনিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাসদ (মার্কসবাদী) কার্যালয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘মহান মে দিবসের তাৎপর্য ও শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভা থেকে নেতারা এ কথা বলেন।

শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা জহিরুল ইসলাম, আবু হাসান টিপু, হারুন অর রশীদ, বিধান দাস, আবদুল আলী, আলিফ দেওয়ান, শবনম হাফিজ, রাজু আহমেদ, মাস্টার মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছে, ক্ষমতাসীনরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো বাংলাদেশটাকে একটা লুটের বাজারে পরিণত করেছে। করোনা অতিমারিতে শ্রমিক-কৃষকসহ যে উৎপাদক শ্রেণি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছে, তারা রাষ্ট্রের সহযোগিতার বদলে পেয়েছে তিরস্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ বন্ধ ও চিনিকলগুলো বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়িয়ে তুলছেন। দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি আর জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধির কারণে গ্রাম-শহরের শ্রমিক-মেহনতিদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বর্তমান বেতনে শ্রমিকদের ১৫ দিন চলাই কঠিন। কেবল গত দুই বছরেই চার কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার চিচে নেমে এসেছে; উল্টোদিকে এই একই সময়ে ২০ হাজার নতুন কোটিপতির জন্ম হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল ও বিভক্ত রাখতে সরকার মালিকদের মদদে অসংখ্য দালাল আর সুবিধাবাদী শ্রমিক সংগঠন সৃষ্টি করেছে, জন্ম দিয়েছে কথিত শ্রমিক নেতাদের। তার ওপরে নানারকম চাপ, হুমকি, চাকুরিচ্যুতি, দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সংগঠিত হতে দেয় না।

সভায় বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়নসহ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। শ্রমিকদের বাঁচার ন্যায্য আন্দোলনকে তারা ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যায়িত করে কথায় কথায় শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও শ্রমিক শ্রেণিসহ শ্রমজীবী মেহনতি পরিবারসমূহের উপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান নিশ্চিত হয়নি; শ্রমিক পরিবারসমূহের জন্য দুর্মূল্যের বাজারে রেশনের ব্যবস্থা নেই, নেই মহার্ঘ্য ভাতা, ঝুঁকি ভাতা। আসলে মালিক শ্রেণি ও সরকার শ্রমিকদের উৎপাদন যন্ত্রের বেশি কিছু মনে করে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১২ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
আরকেআর/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa