ঢাকা, সোমবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

জোড়া লাগা নবজাতক নিয়ে বিপাকে পরিবার

সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০২১
জোড়া লাগা নবজাতক নিয়ে বিপাকে পরিবার জোড়া লাগা নবজাতক।

সাভার (ঢাকা): সাভারের আশুলিয়ায় পায়ুপথ ও লিঙ্গ জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। চার দিন ধরে জন্ম নেওয়া নবজাতক দুটি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র পরিবারটি।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এ কথা জানান জন্ম নেওয়া জমজ শিশুর বাবা মো. সেলিম।

তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে নবজাতক শিশু ও তাদের মাকে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু দুটি সুস্থ থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ রয়েছে।

শিশু দুটির বাবা মো. সেলিম বলেন, ১৮ তারিখ সাভারের সুপার হাসপাতালে আমার স্ত্রী জোড়া লাগা যমজ বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পরে রাত ১২টার দিকে সেখানকার চিকিৎসক ঢাকার শ্যামলী শিশু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে শ্যামলীতে গেলে চিকিৎসকরা সেখানে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা নাই জানিয়ে আমাদের রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেন। সেখানেও আইসিইউ নাই জানিয়ে আমাদের আবারো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আবারো সাভারের সুপার হাসপাতালে আসি। ওই দিনই ১৯ অক্টোবর আবারো শিশু হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হইছে। সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করবো কিভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কি আছে জানি না!

যমজ শিশু দুটির চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু তেমন কোনো পুঁজি না থাকায় ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি নেন। সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার আরও দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত ১৮ তারিখ বিকেলে সাভার সুপার হাসপাতালে আমার ভাবী যমজ সন্তানের জন্ম দেন। ওই সময় আমরা জানতে পারি, জন্ম নেওয়া শিশু দুটির পায়ুপথ ও লিঙ্গ জোড়া লাগানো। তবে ডেলিভারির আগেও আল্ট্রাসনোগ্রামে বাচ্চা যমজ জানতে পারলেও জোড়া লাগানোর বিষয়টি জানা যায়নি।

জানা গেছে, যমজ শিশুটির মা সাথী আক্তার ও মো. সেলিমের আগেও ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। মো. সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কসপে চাকরি করেন। সেলিম পরিবার নিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa