ঢাকা, সোমবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

প্রতিবন্ধীদের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে হবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২১
প্রতিবন্ধীদের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে হবে কথা বলছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: রাজীন চৌধুরী

ঢাকা: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সমাজের একটা অংশ (ডিসএবিলিটি বা প্রতিবন্ধিতা যাই বলি না কেন) নানা কারণে ভুগছে। তাদের ভোগান্তি কমিয়ে আনা বা উপশম করার দায়িত্ব আমাদের।

হয়তো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমরা পুরোপুরিভাবে নিমূল করতে পারবো না।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের কনফারেন্স হলে কালের কণ্ঠ ও সাইটসের্ভাস আয়োজিত ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা (২০২১) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা নিরুপণ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এমএ মান্নান বলেন, যিনি প্রকল্পের উপ পরিচালক তিনি আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো শুনেছেন। তিনি ফিরে গিয়ে সেগুলো নিয়ে কথা বলবেন, আর প্রয়োজন হলে আমার সঙ্গে কথা বলবেন আমি তো আছি। আমরা সবাই মিলে এই গণনার কাজটাকে আরও কীভাবে শাণিত করা যায় সে বিষয়ে আরো কাজ করবো। এটি একটি জাতীয় কাজ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমি কিছুদিন আগে বলেছিলাম এটিই আমাদের শেষ কাজ পরবর্তীতে আর যেন এভাবে করতে না হয়।  এখন সময় ডিজিটাল হয়েছে। আগামীতে যারা আসবে তারা জানতে পারবে প্রতি মুহূর্তে যারা তথ্য জানতে পারবে। এই ধরনের প্রযুক্তি আছে আমাদের শুধু প্রয়োগ করতে হবে। তবে, এবারের শুমারি আমাদের শেষ করতে হবে যেহেতু আমরা এই কাজের মধ্যে আছি। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য কোভিড আমাদের অনেক আঘাত করেছে। পুরো এক বছর আমরা পিছিয়েছি।

এমএ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঠিক এই মাসের মধ্যে আমাদের জনশুমারি করার কথা ছিলো। ঠিক জানুয়ারির মধ্যে করার কথা ছিলো আমরা পারিনি। দ্বিতীয়বারের মতো আবার আমরা পেছালাম। হয়তো গতকাল অথবা পরশু ডিসেম্বরের কোনো একটি তারিখ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা গেছে। তিনি অবশ্যই তা অনুমোদন করবেন। কারণ তিনি সবকিছু বোঝেন এবং জানেন। তবুও আমাদের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা কাজ করে।

ইডাব্লিউএমজিএল পরিচালক এবং কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা চাই পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায় পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে সেই সুবিধাগুলো যেন আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পান। যদি তাদেরকে জনশুমারি ও গৃহগণনায় সম্পৃক্ত না করা হয় তাহলে তো প্রথমেই প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে এক ধরনের উদাসিনতা অনুভব করি। সুতরাং প্রতিবন্ধীদের জন্য কি কি সুযোগ-সুবিধা আমরা চাই, সেগুলো এই বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকারের গোচরে আনতে চাই। ’

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হওয়ায় পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সব অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

তিনি বলেন, ‘সঠিক তথ্য না থাকলে অনেক সময় পরিকল্পনা ঠিক হয় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের সংখ্যাটি জানা, সে অনুযায়ী চাহিদা নিরুপণ করা এবং পরিকল্পনা তৈরি করে সেটা বাস্তবায়ন করা-এটিই কাজের মূল জায়গা। ’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘আলোচনা থেকে আমি যতটুকু বুঝলাম গণণা থেকে কোনোভাবে যেন প্রতিবন্ধীরা বাদ না যায়। এজন্য তাদের যে ১২টা ক্যাটাগ্যরি আছে সে অনুযায়ী তাদের লিপিবদ্ধ করতে হবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। আমরা এবার পুরো জনশুমারিটি ডিজিটালি ট্যাবের মাধ্যমে করবো। এতে একদিকে যেমন ডাটা এনালাইসিস করা সহজ হবে অন্যদিকে তথ্য হারানোর সুযোগ নেই। ’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির পরিচালক অদ্বৈত কুমার রায় বলেন, ‘আমরা ২০১১ সালে একটি জরিপ করি। তার আলোকে একটা নীতিমালা আমরা একমাস আগে করতে পেরেছি। এই জরিপ অনুযায়ী আজকের দিন পর্যন্ত আমরা বারোটা ক্যাটগরিতে ২৩ লাখ ৮৩ হাজার জন প্রতিবন্ধীকে নিবন্ধিত করা আছে। চাইলে যে কেউ তথ্য নিতে পারবে। তবে, তা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুয়ায়ী। আমরা কাজ করছি। আমাদের সার্ভারে সর্বশেষ ২০-২১ অর্থবছরে ৪ লাখের উপর ডাটা এন্টি হয়েছে। আমাদের ৫৭৬টি কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ ডাটা এন্ট্রি হয়। ’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল ডিসএবিলিটি অ্যালায়েন্সের ওপিডি এনগেজমেন্ট অফিসার ও আইনজীবী রেজাউল করিম সিদ্দিকি, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা, সিএসআইডির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খন্দকার জহিরুল আলম, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের পপুলেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান মাহবুব-ই-আলম, লিওনার্ড চ্যাশায়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জহির বিন সিদ্দিক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সামাজিক নিরাপত্তা ও নীতি বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমিনুল আরিফিন, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর অয়ন দেবনাথ, ইনকুশন ওয়ার্কস প্রোগ্রাম অফিসার উৎপল মল্লিক, এসডিএসএলের ট্রেজারার হাসিবা হাসান জয়া প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২১
এসই/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa