ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

শিশু-কিশোরদের কাছে শেখ রাসেল ভালোবাসার নাম: রাষ্ট্রপতি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২১
শিশু-কিশোরদের কাছে শেখ রাসেল ভালোবাসার নাম: রাষ্ট্রপতি শেখ রাসেল

ঢাকা: দেশের শিশু-কিশোর, তরুণ প্রজন্মের কাছে শেখ রাসেল ভালোবাসার নাম মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রাসেল আজ দেশের আনাচে-কানাচে এক মানবিক সত্ত্বা হিসেবে বেঁচে আছেন সবার মাঝে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (১৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। রাসেল আজ দেশের আনাচে-কানাচে এক মানবিক সত্ত্বা হিসেবে বেঁচে আছেন সবার মাঝে। দেশের শিশু-কিশোর, তরুণ প্রজন্মের কাছে রাসেল এক ভালোবাসার নাম।  

তিনি বলেন, ঘাতকরা ১০ বছরের ছোট্ট রাসেলকেও সেদিন রেহাই দেয়নি। ছোট্ট রাসেল সেদিন ঘাতকদের মিনতি করে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাবো’। কিন্তু ছোট্ট শিশুর এ মিনতি ঘাতকদের মন একটুও গলাতে পারেনি। নিমিষেই তারা বুলেটের আঘাতে শিশু রাসেলের প্রাণ কেড়ে নেয়। মৃত্যুকালে রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন। তিনি জানতেন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলির উন্মেষ ঘটাতে হবে। জ্ঞান-গরিমা, শিক্ষা-দীক্ষা, সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমি আশা করি, শিশুদের মধ্যে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।

শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীতে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

শিশু রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে প্রতি বছর তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথমবারের মতো পালিত ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ এর প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ রাসেল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। জাতির পিতা বার্ট্রান্ড রাসেলের বই পড়ে বঙ্গমাতাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। তাই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতা দু’জনে মিলে শখ করে তাদের আদরের ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘রাসেল’।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য শহিদ হন ওই কালরাতে। সেদিন ছোট্ট শিশু রাসেলও খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২১
এমইউএম/এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa