ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

মোবাইল অ্যাপে নতুন মাদক, সেবনকারী ৮২% তরুণ

ইসমাইল হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০২১
মোবাইল অ্যাপে নতুন মাদক, সেবনকারী ৮২% তরুণ

ঢাকা: দেশে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি নতুন নতুন মাদকের বিস্তার হচ্ছে। এসব মাদক বিক্রি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মোবাইল অ্যাপে।

আর তা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে সারাদেশে। নতুন মাদকের সঙ্গে সেবনকারীদের তালিকা বড় হচ্ছে, যাতে যুক্ত হচ্ছে তরুণ-কিশোররা।  

সম্প্রতি দেশে মাদক পাচার, মাদক ব্যবহারের ঊর্ধ্বগতি এবং এর ফলশ্রুতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেল থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য উঠে আসে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।  

সভার কার্যপত্রে দেখা যায়, মাদককের ভয়াবহতা রোধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। এতে বলা হয়, মাদকের ব্যবহার বন্ধে সমন্বিতভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বছরে একবার ডোপ-টেস্ট করতে হবে। যাদের টেস্ট পজিটিভ হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়/আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে হবে।

আরও সিদ্ধান্ত হয়, ডাক বিভাগ ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের মাদক পরিবহন রোধকল্পে স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এবং লাইসেন্সবিহীন কুরিয়ার সার্ভিস বন্ধ করতে হবে; অনুমোদিত কুরিয়ার সার্ভিস/প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা মন্ত্রণালয়/লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি মাদকের চাহিদা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে সকল জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। মাদক সরবরাহকারী ও মাদকসেবীকে শাস্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং এ কাজে নিযুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সুসমন্বয় এবং তথ্য আদান প্রদানের জন্য এটুআইয়ের সহায়তায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সমৃদ্ধ করতে হবে।

মাদকের চোরাচালান প্রতিরোধে সকল বিমান/স্থল/নৌ-বন্দরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। প্রবেশন অফিসারের সংখ্যা, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সংখ্যা, কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ও বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সভাকে অবহিত করেন, বর্তমানে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি ডিএমটি, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, এসকাপ, ম্যাজিক মাশরুম ইত্যাদি নামীয় নতুন ধরনের মাদক বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। প্রচলিত মাধ্যম ছাড়াও মাদক বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে কিশোর-গ্যাং, মানবপাচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে দেশে ৭০০টি কুরিয়ার সার্ভিস চালু রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৭০টি সার্ভিসের লাইসেন্স রয়েছে। কুরিয়ার সার্ভিসগুলো কোন ধরনের নিয়ম অনুসরণ করছে না। এছাড়া উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে অনেক কুরিয়ার সার্ভিসকে আইনমাফিক নিয়ন্ত্রণও করা যাচ্ছে না। আধুনিক লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য সহজে আটক করা যায় বলে তিনি মত দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সভাকে অবহিত করেন যে, তাদের জনবলসহ আধুনিক প্রযুক্তির সংকট রয়েছে। বিশেষত সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে জনবল নেই। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আরও কয়েকটি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, নতুন মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক নিয়ে দ্রুতই তারা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারণার কাজ শুরু করবেন। মাদকদ্রবা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।

ডিএমপি পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিমাসে ডিএমপিতে মাদক সংক্রান্ত ১২০০-১৩০০টি মামলা হয়। নিষ্পত্তি হয় মাত্র ১০০-১৫০টি। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পাঁচ বছর পর সিজার লিস্ট অনুযায়ী সাক্ষী পাওয়া যায় না। দেশে ৬৫-৭০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত হচ্ছেন। শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠিয়ে মাদক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; পাশাপাশি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং মাদকসেবীদের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সভাকে অবহিত করেন, ৬৫-৭০ লাখ মাদকসেবীদের প্রায় ৮২ শতাংশ হচ্ছে তরুণ। মাদকের চাহিদা কমাতে হবে। অংশীজনদের নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এটি আইনশৃঙ্খলাসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে।

ডিজিএফআই প্রতিনিধি বলেন, মাদকের সরবরাহ বেশি। মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে প্রচারণা করে জনগণকে সচেতন করতে হবে। দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সার্বিকভাবে এটি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে মানবপাচার ও অস্ত্রব্যবসা জড়িত রয়েছে। মাদক মামলায় সাজা হয় না। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মামলার সাক্ষী অনেক সময় ম্যানেজ হয়ে যায়। বিচার ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে। কুরিয়ার সার্ভিসের অনিয়মগুলো শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি সভাকে অবহিত করেন যে বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার পরিবর্তে স্বর্ণের বার ক্রয় করছে।

কোস্টগার্ড প্রতিনিধি সভাকে অবহিত করেন, তাদের হাইড্রোফয়েল রয়েছে। সমুদ্রসীমায় মাদকের চালান রোধে তারা তৎপর রয়েছেন। তবে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে মাদক দ্রব্যের চালান ধরার জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক জানান, জেলা পর্যায়ে মাদক দ্রব্যের বিষয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। মাদকসেবীদের মাদকের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে উৎসাহিত করাসহ মাদকের ব্যবহার বন্ধে প্রচারণা চালাতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) মহাপরিচালক বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলোর বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। মাদকের মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি সভাকে অবহিত করেন যে সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে মাদকের বাহক হিসাবে কাজ করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তথ্য শেয়ারিংয়ের জন্য ইন্টার এজেন্সি মেকানিজম থাকতে হবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা নানা পন্থা অবলম্বন করে। তিনি মাদক পাচারের কতিপয় ভিডিও ক্লিপ সভায় উপস্থাপন করেন। তিনি সভাকে অবহিত করেন যে গত কয়েকমাসে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট ধরা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কঠোর নজরদারি করছে। তিনি মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে জনগণকে সচেতন করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্ক্যানার বাড়ানো হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্টাফ রয়েছে। মানব শরীর স্ক্যান করার জন্য নতুন স্ক্যানার লাগানো হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) যোগ করতে হবে। তিনি মাদক দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে তথ্য শেয়ারিং, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রচারণা, ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য অন্যান্যদের শুনানোর ব্যবস্থা, কুরিয়ারগুদামসমূহ স্ক্যানিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা উপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

ডাক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বলেন, ডাক বিভাগের মাধ্যমে যতো পার্সেল যায় তা স্ক্যান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও সতর্ক হয়ে পরীক্ষা করা হবে যেন মাদক ব্যবসায়ীরা ডাক বিভাগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করতে না পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাদকের ব্যবহার বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া, পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তানদের নজরদারি করাও প্রয়োজন। এজন্য আশু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে সাগরে নৌযান থেকে মাদক দ্রব্য আটক করা যায় না। সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি মাদকের চাহিদা বন্ধের বিষয়েও কাজ করা উচিত। এক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে ১২ লাখ মাদকের মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। জেলাগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে এই অনিষ্পন্ন মামলাসমূহ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। ধারণক্ষমতার অভাবে মাদকসেবীদের জেলে বেশিদিন রাখা যায় না। জেলের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত আনীত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রবেশন অফিসারের সংখ্যা, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সংখ্যা কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ও বাজেট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে 'লিড এজেন্সি' করে দেওয়া উচিত; সেই সংস্থার অধীনে সবাই কাজ করবে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে পুলিশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র চালু করার কথা সভায় জানান তিনি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বর্তমানে একটি প্রজেক্টের আওতায় মাদকসেবীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর করবে। বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রসমূহকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মাদকসেবীদের মাদক পরিহারে তথা মাদকমুক্ত করার ক্ষেত্রে সঠিক ঔষুধ প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। মামলার বিচার দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, গডফাদারের তালিকা রয়েছে। শুধু মোটিভেশন দিয়ে মাদকের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। মাদকের সঙ্গে মানবপাচার জড়িত রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দপ্তর আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আনতে হবে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে মাদক নিরাময় কেন্দ্র/হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি মাদক ব্যবহার থেকে মানুষকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভার সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের স্পিডবোট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। র্যাবকে জাহাজ ক্রয় করে দেওয়া হয়েছে। কঠোর না হলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না। ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের ডোপ-টেস্ট পরীক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফেনসিডিলের ব্যবহার অনেক কমেছে। কিশোর গ্যাং নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এদের নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কুরিয়ার সার্ভিসমূহকে আধুনিকায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০২১
এমআইএইচ/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa