ঢাকা, শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

যৌতুকের অভিযোগ দেওয়ায় নববধূকে তালাক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
যৌতুকের অভিযোগ দেওয়ায় নববধূকে তালাক

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ দেওয়ায় মনজিলা পারভিন তিন্নি (১৯) নামে এক নববধূকে প্রথম তালাক দিয়েছেন যৌতুক লোভী স্বামী।

মনজিলা পারভিন তিন্নি উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী গ্রামের ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বনচৌকী গ্রামের মনিরুজ্জামানের মেয়ে মনজিলা পারভিন তিন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন। ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রেম পরিণয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রেমিক যুগল। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই বেকার যুবক স্বামী ফরহাদ ও তার পরিবার যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। প্রেম পরিণয়ে বিয়ের কারণে মনজিলার বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনজিলার ওপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খড়গ। গত ১০ আগস্ট যৌতুকের ২ লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য চাপ দিলে নববধূ মনজিলা যেতে অনিহা প্রকাশ করেন।

যৌতুক লোভী স্বামীর নির্দেশ না মানায় স্বামী ফরহাদ ও তার বাবা-মা মিলে তাকে মারধর করে ঘরে আটকিয়ে রাখে। পরদিন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দাবিকৃত টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেয়। অবশেষে নিরূপায় নববধূ মনজিলা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নববধূ মনজিলা। এদিকে গরিব বাবা মেয়ের সুখের জন্য যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে জমি বিক্রির ঘোষণা দেন।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে হঠাৎ ডাকযোগে আসা চিঠি খুলে মনিরুজ্জামান দেখতে পান চিঠিটি মেয়ের প্রথম তালাকের। মুহূর্তেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয় গরিব বাবা মনিরুজ্জামানের। উপায়ন্তর না পেয়ে থানায় ও স্থানীয়দের স্মরণাপন্ন হন তিনি।

বিষয়টি আপোষ করতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকে বসেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন। বৈঠকে স্বামী ফরহাদ ও শ্বশুর মতিনের পা ধরে কয়েক দিনের সময় চেয়ে কান্না করে জীবন ভিক্ষা চান নববধূ মনজিলা। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী শ্বশুরের মন গলেনি। তালাক দিতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তারা। এ সময় নববধূকে দেনমোহর পরিশোধ সাপেক্ষে খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত নেন মাতব্বররা। এ খবর শুনে বৈঠকেই জ্ঞান হরান নববধূ মনজিলা।

বৈঠক অসমাপ্ত রেখে মনজিলাকে নেওয়া হয় আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার। জ্ঞান ফিরে এলেই স্বামীর বাড়ি যেতে কান্না করছেন তিনি।

হাসপাতালের বেডে নববধূ মনজিলা পারভিন তিন্নি বাংলানিউজকে বলেন, স্বামী ও শ্বশুরের পা ধরে কান্না করেছি একটু সময় চেয়েছি। তারা শুনেনি। আপোষে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে খোলা তালাকের ঘোষণা দিয়েছে। তালাক দিলে আমি আত্মহত্যা করবো। এর দায় স্বামী ও শ্বশুরকে নিতে হবে।

অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকে খোলা তালাক হয়েছে। তবে কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার খোলা তালাক কার্যকর করেছেন তার নাম পরিচয় তিনি দিতে পারেননি।

ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন বাংলানিউজকে বলেন, উভয়পক্ষকে নিয়ে আপোষের জন্য বসেছিলাম। মেয়ে সংসার করার জন্য স্বামী ও শ্বশুরের কাছে প্রথমবারের মত ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু স্বামী কোনভাবেই সংসার করবে না। তাই বৈঠকে উপস্থিত উভয় পক্ষের লোকজন দেনমোহরানার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয়নি।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বৈঠকের খবর শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa