ঢাকা, রবিবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭ সফর ১৪৪৩

জাতীয়

সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ঠাঁই হলো মানসিক হাসপাতালে!

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ঠাঁই হলো মানসিক হাসপাতালে! ফেসবুকের ভিডিও থেকে নেওয়া।

মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার রাজৈরে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় খলিল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে পাগল আখ্যা দিয়ে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে।  

বাবার দুই হাত বেঁধে মারধর করে অসুস্থ সাজিয়ে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ পেলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি অমানবিক উল্লেখ করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যায় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ৬০ বছরেরও বেশি বয়স্ক এক বৃদ্ধকে রশি ও কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলছেন কয়েকজন যুবক ও এক নারী। এটি শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের মাদারীপুর জেলার রাজৈরের বৌলগ্রামের ঘটনা। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও আপলোড হয় ফেসবুকে।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, দীঘদিন ধরে খলিল মিয়ার কাছে তার ৮ বিঘা সম্পত্তি কাগজে-কলমে লিখে চান তার দুই ছেলে নাজমুল, আসিফ ও দুই মেয়ে রাবেয়া ও মাহমুদা এবং স্ত্রী হায়াতুন নেছা। কিন্তু তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন খলিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্তান ও স্ত্রী তার ওপর নির্যাতন চালায়। পরে খলিল মিয়াকে পাগল বানিয়ে তড়িঘড়ি  করে পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতনের শিকার খলিল মিয়ার ছোট ভাই তারা মিয়া শেখ বলেন, আমার ভাইকে পাগল সাজিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানেরা কোথায় যেন নিয়ে গেছেন। তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমার ভাই পাগল না। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আমি আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই।

নির্যাতনের শিকার খলিল মিয়ার মেয়ে মাহমুদা বলেন, আমার বাবাকে কেউ মারধর করেনি। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে নির্যাতনের শিকার খলিলের স্ত্রী হায়াতুন বেগম বলেন, আমার স্বামী পাগল, সে প্রায়ই বাড়িঘর ভাঙচুর করে। তাই তাকে বেঁধে প্রথমে ফরিদপুর, তারপর পাবনার সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক (প্রা.) মানসিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছি।

এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, খলিল মিয়া মালয়েশিয়ায় ৯ বছর প্রবাস জীবন কাটান। এর পরে সৌদি আরব ৩ বছর থেকে হজ করে দেশে ফেরেন। তিনি সুস্থভাবে জীবনযাপন করতেন।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০২১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa