ঢাকা, বুধবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ সফর ১৪৪৩

জাতীয়

যাদের জন্য বাস তাদের সংখ্যাই ছিল কম

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২১
যাদের জন্য বাস তাদের সংখ্যাই ছিল কম

ফেনী: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের কাজে যোগদানের সুবিধার্থে সব ধরনের গণপরিবহন ১৬ ঘণ্টার জন্য চালু করা হয়। যাদের জন্য গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয় যাত্রীবাহী বাসে সেই শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম।

যাতায়াত বেশি ছিল অন্য শ্রেণিপেশার মানুষের।  

রোববার (১ আগষ্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকার বাস যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসগুলোতে শ্রমিকের সংখ্যা কম ছিল। কিছু কিছু বাসে দু’একজন শ্রমিকের দেখা মেলে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ শ্রমিক অসহনীয় দুর্ভোগ সহ্য করে শনিবারই (৩১ জুলাই) কর্মস্থলে পৌঁছে গেছেন।  

ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বেশ কিছু বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অনেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামে বসবাসকারী সাধারণ পরিবারের। ঈদে বাড়ি এসে আটকা পড়েছিলেন। একদিন গণপরিবহন চালু থাকার সুযোগে তারা ফিরছেন।  

সকাল ১০টার দিকে ঢাকাগামী ফেনীর স্টার লাইন পরিবহনের টার্মিনালে নাসির উদ্দিন নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, অফিস থেকে কড়া নির্দেশ ছিল আজই কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। শনিবার অনেক চেষ্টা করেও যেতে পারিনি। তাই আজ ফিরছি।  

নাসির বলেন, অধিকাংশ শিল্প কারখানার শ্রমিকই শনিবার কষ্ট করে চলে গেছেন। অল্প সংখ্যক শ্রমিক যেতে পারেনি, তারা আজ যাচ্ছেন।

কথা হয় সুলতানা পারভীন নামে আরেক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। গণপরিবহন একদিন খোলা থাকায় এ সুযোগে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।  

এদিকে ১৬ ঘণ্টার জন্য গণপরিবহন চালু করা হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির অতিরিক্ত কোনো চাপ নেই। মহাসড়কের কোথাও কোনো ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) জিয়াউল চৌধুরী টিপুর সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সড়কে যানজটের কোনো খবর ছিল না। অল্প সময়ের জন্য চান্দিনা থেকে পুটিয়ার মোড় এলাকায় গাড়ির কিছুটা চাপ ছিল। সম্ভবত টোল প্লাজার কারণে সে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তাও কেটে যায়।  

কুমিল্লার গৌরিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। সড়কে যানবাহনের খুব একটা চাপ নেই। মহাড়কের কুমিল্লা অংশের কোথায় যানজটের কোনো খবর আমরা পাইনি।  

এ ব্যাপারে কথা হয় পরিবহন মালিক প্রতিষ্ঠান স্টার লাইন পরিবহনের গ্রুপের পরিচালক মাইন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শ্রমিকরা যা যাবার আগেই চলে গেছেন। করোনার এ মহামারির সময়ে খুব বিপদ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া মানুষ বের হন না। সরকারের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সময় গণপরিবহন চালু রাখা। গণপরিবহন বন্ধ করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। এ সেক্টরের ৪৫ লাখ জনবল বেকার হয়ে যায়। বড় পরিবহন ছাড়া অন্য কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত গণপরিবহন পুরোপুরিভাবে চালু করে ছোট প্রাইভেটকারসহ অন্য গাড়িগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নজর দেওয়া। মাস্ক পরিধানের ব্যাপারে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা।  

বাংলাদেশ সময়: ২০১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২১
এসএইচডি/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa