ঢাকা, রবিবার, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮, ০১ আগস্ট ২০২১, ২১ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১৮ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম ছবি: উজ্জ্বল ধর

ঢাকা: ঈদুল আযহায় সকাল থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরাও কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করছেন।

তবে গেল বছর কোরবানির ঈদে হাজারো চামড়া ব্যবসায়ী লোকসান গুনেছেন। অনেকে বিক্রি করতে না পেরে অসংখ্য চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন আবার মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন। তাই এবছর অনেকটা বুঝে শুনে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা অনেক কম থাকতে দেখা গেছে। এবার অনেকেই তাদের কোরবানির চামড়া বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চামড়া সংগ্রহে বেশি দেখা গেছে বিভিন্ন মাদরাসা প্রতিনিধিদের। তারা বাড়ি বাড়ি ও এলাকায় ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করে রিকশা, ভ্যান ও পিকআপে করে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের সংরক্ষণের স্থানে।

তবে গেল তিন বছর পর এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। এবছর রাজধানীতে লবন যুক্ত প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৪০-৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩-৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ১৫-১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রাজধানীতে সরকারের নির্ধারিত মূলে চামরা কিনছেন না সংশ্লিষ্টরা।  

রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল বা এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহের পর বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্য পাচ্ছেন না।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী শফিকুল জানান, এখানে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে কেনা চামড়া রয়েছে। কিন্তু সায়েন্স ল্যাবে গিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে প্রকৃত দাম পাচ্ছি না। এবারও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থেকেই গেছে।

এদিকে বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, বারিধারা, পল্টন, আশকোনা, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কমই দেখা গেছে। অনেকেই গতবারের লোকসান মাথায় রেখে এবছর চামড়া কিনতে নামেননি। তবে এসব এলাকায় পাড়া মহল্লা জুড়ে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিদের চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের জামি আতুস সাহাবা মাদরাশায় বিকেল পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক চামড়া অনুদান পেয়েছেন বলে জানান প্রতিনিধি নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা ১ হাজারেরও বেশি চামড়া অনুদান পাবো। যেগুলো অনুদানের চামড়া সেগুলো আনতে উত্তরা এলাকায় আমাদের মাদরাসার প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।

এদিকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী কবির বলেন, গতবার অনেকে চামড়া কিনে বিক্রি করতে পারে নি। আবার অনেকে লোকসানে বিক্রি করছে। তাই এবছর পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। এবছরও লোকসানের আশঙ্কা করছি আমরা। তাই যে কয়টি কিনেছি সেগুলো চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে সামন্য লাভে বিক্রি করে দিয়েছি। ঝুঁকি নিয়ে চাইনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৮ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
এসজেএ/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa