ঢাকা, রবিবার, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮, ০১ আগস্ট ২০২১, ২১ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা শুরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪১ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা শুরু

ঢাকা: কোরবানি হওয়া পশুর চামড়া কেনাবেচা শুরু করেছেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ও পোস্তার মালিকরা। ঈদের দিন দুপুর থেকে পোস্তায় আসতে শুরু করেছে ঢাকা ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ও পাড়ামহল্লায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া।

বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে লালবাগের পোস্তায় নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে আড়তদাররা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুপুরের পর থেকেই চামড়া কেনা শুরু করেছেন, যা চলবে আগামী এক মাস।

বুধবার (২১ জুলাই) দুপুর লালবাগের পোস্তায় গিয়ে দেখা যায়, লালবাগের পোস্তায় বিকেল ৩টার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির চামড়া আসতে থাকে।

আড়তদারদের হাঁকডাকে সরব হয়ে উঠেছে লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজ নারায়ণ ধর রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন রোড। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে এবার করোনাকালে কোরবানি হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পশু কোরবানি এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় পোস্তায় এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা। রাতের দিকে পুরোদমে চামড়া কেনাবেচা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পোস্তার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বিকেল ৫টার পর থেকে চামড়া কেনাবেচা জমে ওঠে। গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ করা হবে। এখানে চামড়া সংগ্রহের পর প্রথমে লবণজাত করা হবে। পরে তারা সাভারের ট্যানারিগুলোতে পাঠিয়ে দেবেন। এছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়তে গতবারের মতো এবারো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হবে না বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি আফতাব খান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা শহর ও এর আশেপাশের কোরবানির পশুর চামড়া পোস্তায় আসতে শুরু করেছে। দুপুর থেকেই আমরা কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছি। বিকেল দিকে কেনাবেচা জমে উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো। আমরা আগেও বলেছি চামড়া কেনার সময় যেন ভেবেচিন্তে কেনে। চামড়ার মান বুঝে আমরা দাম দেব।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ফুট ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনা হবে। এখন যে সকল চামড়া আসছে সেটা লবণ ছাড়া, সেজন্য এ চামড়ার দাম প্রতিফুট লবণযুক্ত চামড়া থেকে ৩ থেকে ৪ টাকা কমে ব্যবসায়ীরা কিনছেন। তবে শহরের চামড়া সন্ধ্যা ৬টা এবং শহরের বাইরের চামড়া যদি রাত ১০টার মধ্যে পোস্তায় আনা যায় তাহলে পচন রোধ করা সম্ভব হবে। সেই সাথে দামও ভালো পাবে। আর যারা পারবে না তারা যে যেখানে রয়েছে, সেখানেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। নইলে গরমের কারণে চামড়া নষ্ট হতে পারে।

তিনি জানান, এ বছর ট্যানারি মালিকরা তাদের বকেয়া কেউ কেউ শতভাগ এবং অনেকে আংশিক পরিশোধও করেছে। ফলে চামড়ার দাম নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা প্রস্তুত আছি। এবছর কোরবানি হওয়া পশুর মধ্যে ৪২ লাখ গুরুর চামড়া ও ২২ লাখ মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত বছর যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছর যা ছিলো ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা। গত বছর যা ছিলো ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপশি বকরির চামড়ার দাম নির্ধরণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা, গত বছর যা ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।

সরকারি একটি গোয়েন্দ সংস্থার প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এবার কোরবানির পশু (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া) প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার। ২০২০ সালে ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার। তার আগে ২০১৯ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার এবং ২০১৮ সালে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল। চলতি বছর আনুমানিক ৯৯ লাখ ২২ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালে পশু কোরবানি হয় ৯৪ লাখ ৫০ হাজার। তার আগে ২০১৯ সালে ১ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার এবং ২০১৮ সালে ১ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার পশু কোরবানি হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪১ ঘণ্টা, জুলাই ২১,২০২১
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa