ঢাকা, সোমবার, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ০২ আগস্ট ২০২১, ২২ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

একদিনের কসাই!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
একদিনের কসাই!

ঢাকা: ঈদুল আজহায় নামাজ শেষে সবাই কোরবানির পশু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এ সময় গরু-ছাগলের চামড়া ছাড়ানো, মাংস ও হাড় কাটতে অনেকটা সময় পার হয়ে যায়।

এতে পরিবারের সদস্যের পাশাপাশি যদি কসাই থাকে তবে পশু কোরবানির সব কাজই খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়।  

তবে রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে প্রায় প্রতিটি বাড়ির সদস্যরা পশু কোরবানিতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় কসাই না থাকায় ভিন্ন পেশার অনেক মানুষ মৌসুমী কসাই হয়ে পশু কোরবানি করেছে। এজন্য ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে রাজধানীতে মৌসুমী কসাই হিসেবে কাজ করতে এসেছেন। তারা পারিশ্রমিকের বিনিময় ‘একদিনের কসাই’ হিসেবে কাজ শেষে আবার ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

রহমতুল্লাহ একজন রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। তিনি উত্তরা এলাকায় যে বাড়িতে কনস্ট্রাকশনের কাজ করেছিলেন। সে বাড়ি ওয়ালার গরু-ছাগল কোরবানির পর চামড়া ছাড়ানো থেকে মাংস কাটার কাজে যুক্ত হয়েছেন। কোরবানির ঈদে তিনি ‘একদিনের কসাই ‘ হয়ে যান।

রহমতুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, আগেও আমার স্যারের বাসায় কাজ করেছি। প্রতি কোরবানির সময় স্যারের গরু-ছাগলের মাংস কাটার কাজ করে থাকি। পরে মজুরি ও কোরবানির মাংস নিয়ে বাড়ি চলে যাই।

তিনি বলেন, আমি জাত কসাই না, তবে কোরবানির ঈদে সব সময় এই কাজটি করি। এতে কিছু টাকা উপার্জনও হয়। তার সঙ্গে শওকত ও রাসেল নামে দুই জন সহযোগীও ছিলেন।

রাজু আহমেদ উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। এবার ঈদে তিনি একটি গরু ও দুটি ছাগল আল্লাহর নামে কোরবানি করেছেন। পরিবারের নিজেদের সদস্য ছাড়াও তিনি দুই জন্য কসাই নিয়েছেন। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন দুজন মৌসুমী কসাই আরিফ ও সোহেল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা কোরবানির গরুর মাংস বানানোর কাজ করেছেন। দুজনকে এই কাজের জন্য দুই হাজার টাকা ও পাঁচ কেজি পরিমাণের মাংস দিয়েছেন রাজু।

এদিকে রাজু আহমেদের চাচাতো ভাই ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীও কসাইকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তারাও কোরবানি ঈদে বনে যান মৌসুমী কসাই।

রাজু আহমেদ বলেন, কোরবানির পর গরুর মাংস বানানো ও হাড় কোপানো একটি ঝামেলার কাজ। নিজেরা এই কাজ করতে গেলে দিন পার হয়ে যাবে। এছাড়াও হাড় কোপানোর কাজ আমাদের জানা নেই। তাই কসাই হিসেবে দু’জনকে চুক্তি দিয়েছি। তাদের সহযোগিতায় দুপুরের মধ্যে সব মাংস ঘরে তুলতে পেরেছি। তারা মূলত কসাই না, তবে কাটাকাটির বেশ কিছু নিয়ম তারা জানেন।

এদিকে নরসিংদী থেকে ভোরে রাজধানীর উত্তরা ৮ নস্বর সেক্টরে এসেছেন আমীর হোসেন। তিনি পাঁচটি গরু বানানোর কাজের চুক্তি করেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তিনজন সহযোগী।  

তারা বাংলানিউজকে বলেন, সকালে তিনটি গরু বানানোর পর মালিক ১৮ হাজার টাকা দিয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তিনটি গরু বানানো শেষ। এখন অন্য এক জায়গায় কাজে যাবো। সেখানে আমাদের পরিচিত আরও লোক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে পরে বাড়ি ফিরে যাবো।

তিনি মৌসুমি কসাই হলেও নরসিংদীর এক কসাইয়ের মাধ্যমে তিনটি গরু বানানোর কাজ পেয়েছিলেন আমীর।

এছাড়া ঈদে রাজধানীতে দেখা গেছে বেশির ভাগই মৌসুমী কসাই। তারা হয়তো কেউ বাড়ির মালিকের ড্রাইভার অথবা দারোয়ান।

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর মাংস বানানোর কাজে রিকশা-ভ্যানচালক, হকার, রাজমিস্ত্রী, গাড়িচালক, দারোয়ানসহ ভিন্ন পেশার অনেক মানুষ মৌসুমী কসাইয়ের কাজ করছেন।

ঈদের একদিন আগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও এলাকা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা মৌসুমী কসাই হয়ে ঢাকায় এসেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
এসজেএ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa