ঢাকা, রবিবার, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮, ০১ আগস্ট ২০২১, ২১ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

মিরাজ মাহবুব ইফতি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৫ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: বুধবার (২১ জুলাই) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসাহ উদ্দীপনা না থাকলেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব।

মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করতে শুরু করেছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে এ বছরের ঈদুল আজহায় অনেক মানুষের মধ্যে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে কোরবানি করার জন্য অনেকেই পশু কিনেছেন। যা তারা বুধবার প্রথম দিনসহ আগামী তিনদিন কোরবানি করবেন।

সামর্থ্যবানরা নিজেদের ও প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে সচেষ্ট হন। যাদের সামর্থ্য নেই তারাও বাদ যাবেন না ঈদের আনন্দ থেকে।

চার হাজার বছর আগে আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) পৃথিবীতে তার সবচেয়ে প্রিয় নিজ সন্তান হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার কুদরতে হযরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হযরত ইব্রাহিমের (আ.) এ ত্যাগের মনোভাবের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর মুসলমানরা প্রিয় পশু কোরবানি করেন। প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। ’

তিনি বলেন, এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য।

কঠিন এ সময়ে তিনি দেশের আপামর জনগণের প্রতি কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপনের আহ্বান জানান।

এক ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তুকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিবছর এ উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছল মুসলমানগণ কোরবানি করা পশুর গোশত আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে মানুষে-মানুষে সহমর্মিতা ও সাম্যের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করেন। শান্তি সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় ঈদুল আজহা।

সংকটময় সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা জনগণকে সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। ’

তিনি বলেন, আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন। এসময় সবাইকে ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে। এই বিপদের সময় স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এই মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করি যেন এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।

ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) থেকে। ঈদের তিন দিন (২০, ২১ ও ২২ জুলাই) ছুটি শেষে ২৩ ও ২৪ জুলাই সাপ্তাহিক (শুক্র ও শনিবার) ছুটি। ফলে ঈদের ছুটি মিলে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সবাই।

ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।

ঈদ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্বারা যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় সে বিষয়ে সব রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১১৫ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০২১
এমএমআই/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa