ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৪৯ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাংচুর করা হয়

গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর ও দুই চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।  

রোববার (১৮ জুলাই) সন্ধায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্র জানায়, রোববার বিকেল থেকে সদর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক সুজন পাল।  

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জাহেদা বেগম (৫৫) নামের এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। জাহেদার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জাহেদার ছেলে জাহিদ মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তারা জরুরী বিভাগের চেয়ার-টেবিল ও জানালা ভাঙচুরসহ চিকিৎসককে গালাগালি শুরু করে।  

এক পর্যায়ে তারা চিকিৎসক সুজন পালকে মারধর করে। এসময় আরেক চিকিৎসক নুরে জান্নাত এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

এই ঘটনায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক তাহেরা আকতার বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছন।

অভিযোগে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় ১০-১২ জনের একটি দল জরুরী বিভাগের চেয়ার- টেবিল ভাংচুর করে। চিকিৎসক সুজন পাল ও নুরে জান্নাতকে মারধর করা হয়। তারা নুরে জান্নাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।  

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আহত চিকিৎসক সুজন পাল জানান, ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে মৃত ঘোষণার পরই রোগীর স্বজনরা অতর্কিতভাবে এই ঘটনা ঘটায়।  

তবে মৃত জাহেদা বেগমের ছেলে জাহিদ মিয়া অভিযোগ করেন, বোরবার দুপুর ১২টার দিকে তার মাকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাৎক্ষনিকভাবে তিনি তার মাকে নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মায়ের ইলেক্ট্রোলাইটসহ তিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বলেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ভর্তি না করে পরের দিন রক্ত দিতে বলেন। এভাবে চিকিৎসার অভাবে তার মা মারা যান বলে দাবি করেন তিনি।  

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৯ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa