ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

খুলনা: কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষার দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সাত গ্রামের জমির মালিকরা।

রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন তারা।

পরে প্রেসক্লাবে তাদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মোংলার পশুর নদের ড্রেজিংয়ের বালু ফেলে কৃষিজমির ক্ষতি না করে কৃষকদের জীবিকা রক্ষার দাবিতে এবং ড্রেজিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমির মালিকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তারা এসব কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে বংশ পরম্পরায় মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সুন্দুরতলা, তেলিখালী, আমতলা, গাববুনিয়া, কলাতলা, কেয়াবুনিয়া ও চিলা গ্রামের অন্তর্গত পশুর নদের পাড়ের কৃষি জমিতে কৃষি ও মাছ চাষ করে জীবন অতিবাহিত করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর নদের ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং করে সেই বালু আমাদের কৃষিজমিতে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমাদের ৭০০ একর কৃষি জমিতে এই বালু ফেলা হবে। ইতোমধ্যে ১৩ মার্চ থেকে কিছু এলাকায় জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়াই বালু ফেলা শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এ জাতীয় কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানানো হয়।

তারা আরও বলেন, চলমান ড্রেজিং কার্যক্রমে ইতোমধ্যে চিলা ইউনিয়নের প্রবাহমান কাটাখালি খাল ভরাট হয়ে গেছে। দুটি রাস্তা সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।  ড্রেজিং কার্যক্রমের আশে-পাশের বাড়িঘর আঙিনা বালু ময় হয়ে গেছে। কৃষকদের না জানিয়ে ড্রেজিংয়ের বালু ফেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন কাজ শুরু করলে সঙ্গত কারণেই কৃষকরা তাতে বাধা দেন। আর এ কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে গ্রামবাসী ও কৃষকদের ভয়-ভীতি এবং হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এমন কী ঠিকাদারের সন্ত্রাসীরা গত ১৭ এপ্রিল সশস্ত্র অবস্থায় রাতে তেলিখালি গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীকে হুমকি দিয়ে আসে।

লিখিত বক্তব্যে গ্রামবাসী আরও বলেন, তারা কোনো ক্ষতিপূরণ চায় না, কোনো আর্থিক সহযোগিতাও চায় না। তারা পূর্বপুরুষের কৃষিজমি রক্ষা করে সেখান থেকে জীবিকা সংগ্রহ করতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসী কৃষিজমি ও কৃষকদের জীবিকা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

এসব কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন- পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খুলনার সভাপতি অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু, সিপিবি নেতা এস এ রশিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) খুলনার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভপতি এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, বাপা খুলনার সমন্বয়করী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, আগুয়ান ৭১ এর আব্দুল্লাহ চৌধুরী ও আবিদ আহাসান শান্ত, বাপার মোংলার আহবায়ক নূর আলম শেখ, ছায়া বৃক্ষের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাত গ্রামের জমির মালিকদের পক্ষে মো. আলম গাজী।

এছাড়া কৃষি জমির মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুদ্দুস হাওলাদার, আবু হানিফ ফকির, আলী রেজা মুকুল শিকদার, বিজন কুমার বৈদ্য, এসারাত ফকির, জাকির মোসাল্লি, বাবুল শেখ, মোঃ আলাউদ্দিন শেখ, হুমায়ুন ইজার্দার, হারুন শেখ, ঝুমুর বেগম, হেম রায় ও সবুর হাওলাদার।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
এমআরএম/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa