ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

দূরপাল্লার গণপরিবহনে সিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০১ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
দূরপাল্লার গণপরিবহনে সিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি ছবি: শাকিল

ঢাকা: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কোরবানির গরুর ট্রাক ঢাকামুখী হওয়ায় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

যানজটের কারণে দূরপাল্লার গণপরিবহন সিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। এছাড়া সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোববার (১৮ জুলাই) রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলী বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

এসব কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা সকাল থেকে কাউন্টারে এসে জমায়েত করলেও গাড়ির দেখা নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

রাস্তায় জ্যামের কারণে শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যেখানে প্রতিদিন সাত থেকে আটটি গাড়ি চলাচল করতো সেখানে দু’টি গাড়ি চলছে। মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্যামলীতে অবস্থিত কে লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. রিয়াদ।  

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, করোনার কারণে একটি বাসে ২০ জন যাত্রী নিয়ে চলতে হয়। তাই যাত্রীর চাপ আছে। তবে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে আমাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।  

রিয়াদ বলেন, আমাদের গাড়ি আসতে দেরি হলে যাত্রীদের ফোন করে জানাচ্ছি। তারপরও টাইমিং হচ্ছে না। অনেক যাত্রী কিছুটা আগেও চলে আসছে। এতে কিছুটা সময় তাদের কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  

সকালের গাড়ি বিকেলের মধ্যেও আসচ্ছে না। যাত্রীদের একাধিকবার ফোন করেও শিডিউল ঠিক রাখতে পারছি না। আবার কেউ কেউ ফোনে যোগাযোগ না করে সরাসরি চলে আসছেন কাউন্টারে এতে তাদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসের কাউন্টার ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া।

সকাল থেকে যাত্রীরা কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন বাড়ি ফিরতে। ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে অনেক দিন গণপরিবহনসহ সবকিছুই বন্ধ ছিল। ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেনি। তবে গাড়ির সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে কোরবানির কারণে ফেরিতেও গরুর গাড়িকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত হাই ট্রাভেলস দ্রুতি পরিবহনের ফোরম্যান মো. সুমন মিয়া।  

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, রাস্তায় যানজটের কারণে গাড়ির সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সকালে গাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সেই গাড়ি বিকেলেও ফিরছে না। তবে আমরা সিডিউল যাত্রীদের ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি।

ঢাকা থেকে যশোর যাবেন আজাদ হোসেন। দুই ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। কখন বাস আসবে আর কখন বাড়ি ফিরবেন কিছুই বুঝছেন না বলে তিনি জানান।

আজাদ বলেন, ফোন করে কাউন্টারে এসেছি তারপরও দুই ঘণ্টা হয়ে গেল এখনও গাড়ি এসে পৌঁছায়নি। জানি না কখন রওনা দিতে পারবো।  

অপরদিকে ঈদের পর ‘কঠোর লকডাউন’ থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। একটু দুর্ভোগ হলেও যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল হাসি আর আনন্দে ভরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িতে ঈদের আনন্দটা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

সরকারি ছুটি শুরু না হলেও ফাঁকা হতে শুরু করেছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা। সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদেরও চাপ অনেক বাড়বে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
এসএমএকে/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa