ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বিধি-নিষেধ ‘শিথিলের খবর’ কেবল মানুষের মুখে মুখে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০২ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০২১
বিধি-নিষেধ ‘শিথিলের খবর’ কেবল মানুষের মুখে মুখে ফাইল ছবি

ঢাকা: ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিধি-নিষেধ শিথিলের সময় বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রস্তাবনা বা আলোচনা নেই।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের পরের বিধি-নিষেধ বা লকডাউন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১ থেকে ১৪ জুলাই কঠোর বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করা হয়। ওই সময়ে গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত এবং শপিংমল বন্ধ ছিল। ঈদকে সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়। ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে আবারও কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু হয়ে চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

ওই কঠোর বিধি-নিষেধ চলাকালে সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শপিংমল ও শিল্প কারখানাও বন্ধ রাখা হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, পথে পথে যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে মানুষের গাদাগাদি কমাতে বিধি-নিষেধ শিথিলের সময় আরও চারদিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বুধবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা করে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সকল শ্রেণির গণপরিবহন চালু করেছে। এতে করে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাতদিন ধরে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেলেন। অথচ আমাদের দেশে রাস্তা ও গণপরিবহন সংকটের কারণে ঈদুল আজহার পরের দিন ২২ জুলাই মাত্র একদিনে গ্রামের বাড়ি থেকে রাজধানীতে বা কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

শিথিল পরিস্থিতি চারদিন না বাড়ালে ২২ জুলাই কর্মস্থলে ফেরার জন্য একদিনে সবাই রাস্তায় নামলে যানজট, জনজট, গণপরিবহন, ফেরিঘাট, টার্মিনালে মানুষের গাদাগাদিতে ভয়াবহ ভোগান্তির পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। এতে করে গত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের অর্জিত ফলাফল শূন্যের কোটায় পৌঁছাবে বলে মনে করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক।

অপরিবর্তিত করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে শিথিলতার দাবির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা শনিবার বাংলানিউজকে বলেন, বিধি-নিষেধ শিথিলের বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো আলোচনা বা প্রস্তাবনা নেই। অফিস ডে’তে রোববার হয়তো বোঝা যাবে। বিধি-নিষেধ শিথিলের খবরটি কেবল মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।

তবে ঈদের পরের বিধি-নিষেধ যে শিথিল হচ্ছে না তা স্পস্ট করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

শনিবার (১৭ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোরবানি ঘিরে আমাদের বিশাল অর্থনীতি রয়েছে। অনেকে গরু প্রতিপালন করেছে। সবকিছু বিবেচনা করে চলাফেরার ওপর বিধি-নিষেধ শিথিল করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের পর ১৪ দিন যে লকডাউন আসছে তা কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের সময় সরকারি, বেসরকারি অফিসসহ গার্মেন্ট ও শিল্প কারখানা বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০২১
এমআইএইচ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa