ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

৪০ হাজার টাকায় চাকরির প্রলোভন, ভুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আটক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
৪০ হাজার টাকায় চাকরির প্রলোভন, ভুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আটক আটক দুলাল

বাগেরহাট: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ডাকবিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রতিপদের মাত্র ৪০ হাজার করে টাকা দিতে হবে।

যোগদানপত্র হাতে পেয়ে টাকা দিলেই চলবে।  

ভুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতারক মো. দুলালের এমন কথা বিশ্বাস করেছিলেন বাগেরহাটের কয়েকজন বেকার যুবক। টাকা দিতে রাজি হয়ে দুলালের কাছে জীবন বৃত্তান্ত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রও দিয়েছিলেন তারা।  

পরে খোঁজ-খবর নিয়ে বেকার যুবকরা দুলালের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাগেরহাট মডেল থানায় জানান। ওই যুবকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাট মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুলের (ম্যাটস) গেটের সামনে থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ দুলালকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে। পরে দুলালের ভাড়া বাসা থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাতটি ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টস উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতার মো. দুলাল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাগেরহাট শহরে বাসাভাড়া নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পরিচয়ে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন।

থানায় অভিযোগকারী বাগেরহাট সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান বলেন, মুনিগঞ্জ ব্রিজের নিচের একটি দোকানে চা খাপান করার সময় মো. দুলালের সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন তিনি আমাদের মাইমুন হাসান হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আমাকে চাকরির অফার দেন। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন চাকরির জন্য রাজি হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগের জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। তার কথায় আমরা সম্মতি দিলে তিনি যোগদানপত্র দেওয়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি মাইমুন নামে কোনো ব্যক্তি বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেন না। আমাদের কাছে সন্দেহ হলে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই।

চাকরিপ্রত্যাশী বাগেরহাট সদর উপজেলার চরগা গ্রামের সফরুল আমিন আকাশ ও মেহেদী হাসান বলেন, বেকার থাকার কারণে দুলালের কথায় রাজি হয়ে টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আরও খোঁজ খবর নেওয়া প্রয়োজন ছিল। সবাই বেকার ভাইবোনদের চাকরির জন্য কাউকে টাকা দেওয়া আগে আরও বেশি খোঁজ খবর নেওয়ার অনুরোধ করেন তারা।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মো. দুলালকে গ্রেফতার করেছি। তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাতটি যোগদানপত্রসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশকিছু ডকুমেন্টস উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ স্বীকার করেছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়মিত মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়াও তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
 
বাংলাদেশ সময়: ২১১২ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa