ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

পাবনায় আলোর পথ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবক হত্যার অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
পাবনায় আলোর পথ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবক হত্যার অভিযোগ সোলাইমান মৃধা

পাবনা: পাবনায় আলোর পথ নামে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সোলাইমান মৃধা (২৩) নামে এক যুবককে চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।  

পরিবারের অভিযোগ, আলোর পথ নামে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়ে ছিলেন তারা।

ভর্তি করে দিয়ে আসার পর ওইদিন রাতেই মৃত্যুর খবর আসে সন্তানের। বিষয়টি কোনো মতেই আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  

এ বিষয়ে নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদোসক্ত ছিলো। তাকে ভালো করার জন্য আমরা স্থানীয় আলোর পথ মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে যোগাযোগ করে ভর্তি করি। মাসিক ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ চুক্তিতে সেখানে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সন্তানকে ভর্তি করে দিয়ে আসার পর রাতেই ওই নিরাময় কেন্দ্র থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল করে জানানো হয়- আপনার ছেলে গলায় ফাঁস নিয়েছে। আমরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে যাই কিন্তু আমার সন্তানের গলায় ফাঁস নেওয়ার কোনো দাগ পাইনি। ওরা তাকে চিকিৎসার নামে নিযার্তন করে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।  

এ বিষয়ে আলোর পথ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ম্যানেজার মোসাদ্দেকুর রহমান জানান, ছেলেটি নিজেই নিরাময় কেন্দ্রের বাথরুমে ঢুকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। আমরা তাকে বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আমরা তার পরিবারকে সংবাদ দেই। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো  সম্পৃক্ততা নেই। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। পারিবারিক চাপের কারণে ছেলেটি নিরাময় কেন্দ্রের বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস নিয়েছে। ঘটনার সময় আমরা বেশ কয়েকজন নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে ছিলাম। আমাদের দ্বারা তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, এ ব্যাপারে গতকাল রাতে খবর পেয়েছি। স্থানীয় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে একজন যুবক আত্মহত্যা করেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তবে ওই পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।  

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে সঠিকভাবে বলতে পারবো আসলে কি হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।   অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa