ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

জমতে শুরু করেছে হাট, ছোট গরুর বড় দাম

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
জমতে শুরু করেছে হাট, ছোট গরুর বড় দাম

ঢাকা: গাবতলী পশুর হাটের মাঝখানে ক্রেতা-ব্যাপারীদের মধ্যে চলছে বাহাস। ২ মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দাম ৯০ হাজার টাকা হাঁকছেন কুষ্টিয়া সদরের মিলন ব্যাপারী।

তার দাম শুনে ক্ষুব্ধ তেজগাঁওয়ের ক্রেতা বশির মিয়া। ব্যাপারীর চাওয়া দাম অনুযায়ী মাংসের কেজি পড়ে ৪৫ হাজার টাকা মণ।

এ প্রসঙ্গে মিলন ব্যাপারী বলেন, গরু কোরবানি দেওয়া হয় আল্লাহকে খুশি করার জন্য। গোস্তের দামে কোরবানি হয় না!

শুক্রবার (১৬ জুলাই) গাবতলী পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট গরুর দাম চড়া। ৫ মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দামও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। হাটে পর্যাপ্ত গরুও রয়েছে। ছোট গরুর ব্যাপারীরা চড়া দামে গরু বিক্রি করছেন।

মুন্নাফ ব্যাপারী গত মঙ্গলবার রাজবাড়ী থেকে ১৫টি ছোট থেকে মাঝারি গরু তুলেছেন হাটে। গরুগুলো থেকে মাংস মিলবে ৩ থেকে ৪ মণ করে। প্রতিটি গরুতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে লাভ করেছেন তিনি।

মুন্নাফ ব্যাপারী বলেন, আল্লাহ দিলে ছোট গরুর দাম ভালো। এবার আশা করছি পেটে ভাতে হবে। গরুর দামও ভালো।

ছোট গরুর চড়া দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গো খাদ্যের দাম বাড়তি। এছাড়া বাড়তি দামে গৃহস্থের কাছ থেকে গরু কিনেছি।

তবে হাট ঘুরে দেখা গেছে বড় গরুর চাহিদা কম। রংপুরের নূর শাহীন ব্যাপারী এবার ৪টি বড় গরু হাটে তুলেছেন। তবে এখনো ক্রেতা পাননি তিনি। ১৩শ’ কেজি মাংস পাওয়া যাবে এমন গরুর দাম হাঁকছেন ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নূর শাহীন বলেন, বড় গরুর চাহিদা কম। তবে দেখা যাক সামনে কী হয়।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) জুম্মার নামাজের পর ক্রেতা সমাগম বাড়ে গাবতলী পশুর হাটে। তবে ক্রেতাদের দাবি এবার গরুর দাম বাড়তি।

মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন মতিয়ার রহমান। তিনি কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী। গরুর দাম প্রসঙ্গে মতিয়ার বলেন, গত বছরের থেকে গরুর দাম বাড়তি। বাজেটের সঙ্গে গরুর সাইজ মিলছে না। ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি হলে মেনে নেওয়া যায় কিন্ত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বাড়তি দাম হলে মেনে নেওয়া কঠিন। ৩ মণ মাংস হবে না এমন গরুর দাম ১ লাখ ৩০ বলছে। গত বছর এমন সাইজের গরু ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি।

নগরীর স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীর মূল হাটের স্থান সম্প্রসারিত হয়েছে। মূলত গরুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাটের জায়গা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হাট কমিটির দাবি শুক্রবার থেকে বেচাকেনা স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও মূল বেচাকেনা হবে ১৯ ও ২০ জুলাই।

গাবতলীর গরু হাটের পরিচালক মো. রাকিব ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, এখন যাদের বাড়িতে জায়গা আছে তারা গরু কিনছেন। তবে চূড়ান্তভাবে বেচাকেনা শুরু হবে ১৯ ও ২০ জুলাই। হাটে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
এমআইএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa