ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বরিশালে অনলাইনে সাড়া নেই, ক্রেতারা হাটে-খামারে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১২ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
বরিশালে অনলাইনে সাড়া নেই, ক্রেতারা হাটে-খামারে

বরিশাল: বরিশালে অনলাইন ভিত্তিক পশুর হাটগুলোতে তেমন একটা সাড়া মিলছে না। স্বশরীরে পশুরহাট ও খামারির বাড়িতে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।

মাসুদ সিকদার নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, গরু সরসরি না দেখে কেনার অভ্যাস নেই কারো। তাই ফেসবুক কিংবা অনলাইন হাটগুলোতে পশু খোঁজার প্রচলন খুব কম মানুষের মাঝে দেখা গেছে। হাটে গিয়ে নয় তো খামারে, কিংবা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গরু-ছাগল কেনার চেষ্টা করছেন ক্রেতারা।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ডিজিটাল হাটে গোটা বরিশাল বিভাগের মাত্র ৫টি গরুর ছবি ও মূল্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে বরিশালের ২টি, ঝালকাঠির ২টি ও পটুয়াখালীর একটি গরুর ছবি ও মূল্য দেওয়া আছে। ‘অনলাইন কোরবানির হাট বরিশাল’ নামে ফেসবুক পেজ না খুলে খোলা হয়েছে গ্রুপ। যেখানে সাধারণ মানুষ অ্যাডমিনের অ্যাপ্রুভাল না পেলে প্রবেশ করতে পারছেন না। আর অ্যাডমিনের অ্যাপ্রুভাল পাওয়াটা কঠিন মনে হচ্ছে। কারণ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ দুজন অ্যাডমিনের দায়িত্বে রয়েছেন সেখানে। এছাড়া কুরবানির ‘পশুর হাট বরিশাল’ নামে যে পেজটি রয়েছে সেখানে হালনাগাদ তথ্য নেই। তাই অনলাইনের থেকে হাটে যাওয়াই উত্তম বলে মনে করছি।

মুরাদ সরদার নামে একজন ক্রেতা জানান, গত বছরের চেয়ে এবারে তার পরিচিতদের অনেকেরই আর্থিক অবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে। যারা আগে এককভাবে কোরবানি দিয়ে আসছিলেন তারাও এবার ভাগে পশু কোরবানি দিচ্ছেন। আর সেই পশু খুঁজতে গিয়ে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে গিয়েছিলেন ঝালকাঠি সদরের সুগন্ধিয়ার হাটে। সেখানে গিয়ে প্রচুর গরুর দেখা মিললেও দর চড়া থাকায় কিনতে পারেননি। এখন বাড়িতে বাড়িতে গরু খুঁজছেন বলে জানান তিনি।

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল আলম বলেন, বরিশালে কোরবানির পশু ক্রেতারা মূলত স্বশরীরে হাটে উপস্থিত হয়ে দেখেশুনে দরদাম করে পশু কিনতে আগ্রহী। এ কারণে অনলাইনে পশু বিক্রিতে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতারা মূলত হাটের জন্য অপেক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ‘অনলাইন কোরবানির হাট বরিশাল’ নামে একটি অনলাইন পশুর হাট চালু করে গত ২৫ জুন। গত ১৯ দিনে এই হাটে মোট ১০ হাজার গরু ও ছাগলের ছবি ও বিক্রেতার নাম আপলোড করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

বরিশাল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, সদর উপজেলা থেকে সরকারি অনলাইন হাটে ১ হাজার ৮৫৭টি গরু ও ২৪৩টি ছাগলের ছবি আপলোড করা হয়েছে। কয়েকজন মানুষ অনলাইনে আলাপ আলোচনা করে কেনার জন্য পশু নির্বাচন করে রেখেছেন। লেনদেন হয়নি এখনও।

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বরিশাল মহানগর এবং জেলায় মোট ৬৮টি গরুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম জানান, এবার করোনার কারণে যাচাই-বাছাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদাপত্র অনুযায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ৪ হাজার ২২৬টি বড়-ছোট পশুর খামার রয়েছে। এতে পশু মজুদ রয়েছে ৪৬ হাজার ৬১৯টি। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৩৯৫টি গরু এবং ছাগল রয়েছে ৮ হাজার ২২৪টি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
এমএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa