ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের গলার কাঁটা জরাজীর্ণ নলকা সেতু

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২০ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের গলার কাঁটা জরাজীর্ণ নলকা সেতু

সিরাজগঞ্জ: আর মাত্র পাঁচদিন পর ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

 

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা এবং খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ঘরে ফেরার অন্যতম রুট বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক। নানা কারণে প্রতি বছরই এ মহাসড়কটি দুর্ভোগের কারণ হয়। প্রতিবারের মত এ বছরও মহাসড়কটির আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে জরাজীর্ণ নলকা সেতু।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, যে কোনো যানবাহনকে নলকা সেতুর ওপর উঠেই গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এ কারণে সেতুর উভয়প্রান্তে সব সময়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকে। পাঁচ/১০ মিনিট পর পরই দু-পাশে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

কখনো কখনো এ যানজট তীব্র হয়ে হাটিকুমরুল-বগুড়া, হাটিকুমরুল-পাবনা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত হয়। যানজট নিরসনে সেতুর উভয়প্রান্তে সব সময়ই মোতায়েন রয়েছে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ।

এ সময় কথা হয় বাসচালক মিলন, নাবিল পরিবহনের চালক শফিক, হানিফ পরিবহনের আরজু, সুপার ভাইজার সামিউল, ট্রাকচালক আব্দুল্লাহ ও জহুরুলসহ অনেকের সঙ্গে।

তারা বলেন, এ মহাসড়কের নলকা সেতুটি যেন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুতে ওঠার আগেই গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে হয় এবং শ্লথ গতিতে পার হতে হয়। সেতুর ওপর ২০-২৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালালে কেঁপে ওঠে।

চালকেরা বলেন, গত ১০ বছর ধরে এ সেতুর কারণে শত শত বার যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। শুধু ঈদ নয়, যে কোনো সময় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকলেই এখানে যানজট হয়।

ঢাকা থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেসের যাত্রী আব্দুল হামিদ, সিরাজ আলী, পলি খাতুন, সুইট হোসেন ও তামান্না বেগম বলেন, প্রতি বছর দু’টি ঈদে আমরা বাড়ি আসি। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর থেকেই যানজটের কবলে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ নলকা সেতুটি দেখছি। এটির কারণে যানজটের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের।

নলকা এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহম্মেদ, পাঁচলিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা আরাফাত রহমানসহ অনেকেই বলেন, এ সেতুটি স্থানীয়দের কাছেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা বছরই সেতুর উভয় পাশে গাড়ির চাপ ও মাঝে মধ্যে যানজট থাকে। তার থেকেও বড় ভয়, সেতুটি যেভাবে কাঁপে, কখন ভেঙে পড়ে যায়, এলাকাবাসী সব সময়ই এমন আতঙ্কে থাকে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড় নদীর ওপর এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর ১০ বছর পর ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক এ সড়কটি মহাসড়কে পরিণত হলেও এ সেতুটির কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হয়নি। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করার পর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করছে এ সেতুটি দিয়েই। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে যে কোনো যানবাহন এ সেতুটির ওপর উঠলেই সেতু কাঁপতে থাকে। যে কারণে এখানে এসে গাড়ির গতি চার ভাগেরও নিচে নামিয়ে আনতে হয়। মাঝে মধ্যেই সেতুর সংস্কার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু সেটা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সেতুর ওপর কার্পেটিংয়ের কাজ করা হলেও এখনো  জয়েনিং স্থানে রয়েছে খানা-খন্দ।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, নলকা সেতু এ মহাসড়কে যানজট ও দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। একে তো সেতুতে উঠলে কম গতিতে গাড়ি চলে। তার ওপর সব সময়ই সেতুর একটি লেনও বন্ধ করে যানবাহন ছাড়া হয়। এছাড়া সেতুটির ওপর উঁচু-নিচু কার্পেটিংয়ের কারণেও যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব কারণেই উভয় পাশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন জমা হতে থাকে। কখনো কখনো তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহজাহান আলী বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই সেতুটি সংস্কার করছে সড়ক বিভাগ। তবুও খানা-খন্দ রয়েই গেছে। এ
সেতুটি সঠিকভাবে মেরামত না হলে দুর্ভোগ কিছুতেই কমবে না।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মিলু বলেন, সেতুটি নির্মাণকালীন এক্সপানশন জয়েন্টে সমস্যা ছিল। এর ফলে দু-চারদিন যানবাহন চলাচল করার পর জয়েন্টগুলোর বিটুমিন কার্পেটিং উঠে যায় এবং উভয়পাশে উঁচু হয়। আবার উঁচু স্থানগুলো কেটে নতুন করে বিটুমিন কার্পেটিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। এ কারণে সেতুর কার্পেটিং বিটুমিন দ্রুত উঠে যায়। আমরা ঈদ উপলক্ষে একবার মেরামত করেছি। তারপরও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণ করছি। এরই মধ্যে ফোরলেন মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ সেতুর পাশ দিয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ কাজও চলছে। আশা করি, সেতুটি হয়ে গেলে দুর্ভোগ থাকবে না।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa