ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

৬৫টি পাড়ার যাতায়াতের একমাত্র মেঠোপথ সংস্কার প্রয়োজন

অপু দত্ত, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
৬৫টি পাড়ার যাতায়াতের একমাত্র মেঠোপথ সংস্কার প্রয়োজন ৬৫টি পাড়ার যাতায়াতের একমাত্র মেঠোপথ সংস্কার প্রয়োজন

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলার উপজেলা লক্ষীছড়ির সবচেয়ে দূর্গম ইউনিয়নের নাম বর্মাছড়ি। এখানকার ৬৫ পাড়ার সঙ্গে লক্ষীছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বর্মাছড়ির মেঠোপথ।

সেটি দিয়ে যাতায়াত করা মোটেও সম্ভব হচ্ছেনা। তাই খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের ১৫ কিলোমিটারের রাস্তা দ্রুত পিচ ঢালাই বা ব্রিক সলিং করে দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

প্রায় ৭ হাজার বাসিন্দার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বর্মাছড়ি। দূর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ির মানুষ যাতায়াত করছেন। সেখানে একটি বাজারও নেই। ফলে এত মানুষ কষ্ট করে হলেও লক্ষীছড়ি বাজারে এসে বেচাকেনা করতে হয়। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঠো পথ হেঁটে আসতে হয়। শুস্ক মৌসুমে ৫/৭ ঘণ্টা হেটে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষায় তা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী পাইম্রাও মারমা ও অতইশী মারমা বলেন, বর্ষাকালে এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। কাঁদা পানিতে রাস্তা ডুবে থাকে। যানবাহনও ঠিক মত চলেনা। বাজারে আসা যাওয়াসহ সবক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষত কৃষি পণ্য মাথায় বয়ে লক্ষীছড়িতে আনতে কৃষকদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উৎপাদিত কৃষি, ফলজ ও বনজ সম্পদ বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বাসিন্দারা ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বর্মাছড়ির বাসিন্দা মংসানু চৌধুরী বলেন, লক্ষীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি সড়কটি অনেক বছর ধরে অযতেœ পড়ে আছে। কারো নজরদারি নেই। আমরা নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া থেকে সব কিছুতে আমরা দূর্ভোগ পোহাচ্ছি।

এদিকে লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর হতে বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দুরত্ব মোট ১৮ কিলোমিটার। তার মধ্যে মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পিচ ঢালাই করে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। বাকি ১৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ১০ বছর আগে উন্নয়ন বোর্ড এই সড়ক নির্মাণে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্মাছড়ি সড়কের সবকটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী জানান, এটি লক্ষীছড়ির অভ্যন্তরীণ সড়ক। ইতোমধ্যে এই সড়কের ব্রিজগুলো হয়ে গেছে। শুধু পিচ ঢালাই বাকি। আশা করি সহসাই স্থানীদের কষ্টের সমাধন হবে।

দুর্গম এলাকার লোকদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকার রাস্তাটি অবিলম্বে পিচ বা ব্রিক সলিং এর ব্যবস্থা করে দেবে আশাবাদ সকলের।

বাংলাদেশ সময়: ০৮২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
এডি/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa