ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

মহাখালী টার্মিনালে বাড়তি টাকায় মিলছে বাসের টিকিট

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২১
মহাখালী টার্মিনালে বাড়তি টাকায় মিলছে বাসের টিকিট মহাখালী বাস টার্মিনাল | ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: টানা ১৪ দিন কঠোর লকডাউনের পর শিথিল বিধিনিষেধের প্রথম দিন চলছে। দীর্ঘদিন গণপরিবহনসহ দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকার পরে চালু হয়েছে সেগুলোও।

তবে ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি ভাড়ায় কিনতে হচ্ছে বাসের টিকিট।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে টিকিট কাটার সময় এমনই অভিযোগ করেন কোনো কোনো যাত্রী।

এনা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে রহিম শেখ নামে এক যাত্রী বাংলানিউজের প্রতিবেদককে বলেন, আমি যাবো গাইবান্ধার পলাশবাড়ি। কিন্তু কাউন্টারে বলে টিকিট নেই। রংপুরের গাড়ির টিকিট আছে। সেটাই নিলাম। করোনার কারণে সরকার নির্ধারিত বাড়তি ভাড়া নিয়ে হয় ৯০০ টাকার মতো। কিন্তু আমাকে ১৩০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। এর কম বললে, টিকিট নাই জানিয়ে দেয় কাউন্টার থেকে। পরে কাউন্টারের ভেতরে থাকা লোক বাইরে এসে ১৩০০ টাকায় টিকিট দেয় আমাকে।

যাত্রীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করছে বাস মালিক সমিতি। মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ বা অন্য কোনো কারণে কোনো বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। আগের ভাড়ার সাথে সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ভাড়াই শুধু বেশি নেওয়া হচ্ছে। কারণ করোনার কারণে প্রতি দুই সিটে একজন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বাসে যাত্রী পরিবহনে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আমরা যেসব ব্যবস্থা নিয়েছি সেগুলোর খরচ, তেলের খরচ এবং সড়কে বিভিন্ন টোলের খরচ দিয়ে প্রতি ট্রিপে আমাদের আরও উলটো ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সকাল থেকেই ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। এই টার্মিনাল থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ২০০ বাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল, সিলেটসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর উদ্দেশে ছেড়ে যায়।  

সকাল থেকে টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বের হওয়া এসব বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি দেখা গেছে। প্রতিটি বাসেই প্রতি দুই সিটে একজন করে যাত্রী বসানো হয়। এছাড়াও বাসে ওঠার ক্ষেত্রে যাত্রীদের মাস্ক পরা ছিল বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, আমরা সবসময়ই চেয়েছি সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চালু রাখতে। প্রতিটি গাড়ি আগে থেকে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে, স্প্রে করা হচ্ছে। যাত্রীরা যখন উঠছেন তখন তাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসে ওঠার সময় তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ানো হচ্ছে, জুতায় বা ব্যাগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বাসের হেল্পার বা চালক ছাড়া এই কাজগুলো নিশ্চিত করতে আমাদের নিজস্ব আলাদা লোকবল কাজ করছে। আবার টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর পথেও যেন স্বাস্থ্যবিধি ঠিক থাকে তার জন্য যাত্রাপথের বিভিন্ন স্থানে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন মিলে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতি বাসে তল্লাশি করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত মহাখালী বাস টার্মিনালে দিনের বাসের টিকিট অগ্রিম দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মালিক সমিতির এই নেতা। তবে একদিন এসে অন্যদিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। আব্দুল মালেক বলেন, আজ এসে কেউ আগামীকালের টিকিট পাবেন না। বরং কাল সকালে এসে কাল রাতের অগ্রিম টিকিট পাবেন। কারণ হচ্ছে, সড়কে প্রচুর জ্যাম। বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাশে দীর্ঘ জ্যাম রয়েছে। দেখা গেলো, কাল রাতের অগ্রিম টিকিট দিলাম যাত্রীদের কিন্তু বাস আসতে পারলো না। তখন যাত্রীরাই অসন্তুষ্ট হবে। তাই সড়কের অবস্থা বুঝে কয়েক ঘণ্টা পরের বাসের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। বাস পর্যাপ্ত থাকলে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২১
এসএইচএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa