ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

পঙ্গু ভিক্ষুকদের ৮২.৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
পঙ্গু ভিক্ষুকদের ৮২.৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার

ঢাকা: দেশে দুর্ঘটনাজনিত কারণে পঙ্গু হয়ে যারা ভিক্ষাবৃত্তি করছেন তাদের মধ্যে ৮২.৫৩ শতাংশ ভিক্ষুক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছেন এবং ১৭.৪৬ শতাংশ গাছ থেকে পড়াসহ অন্যান্য কারণে পঙ্গু হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৪ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের প্রতিবেদন জানানো হয়।

পঙ্গু ভিক্ষুকদের ৩২.৬৯ শতাংশ মোটরযানের (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক্টর, ট্রলি) শ্রমিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ১৭.৩০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন, ভটভটি, চান্দের গাড়ি, টমটম, অটোরিকশা, অটোভ্যান, প্যাডেল রিকশা, ঠ্যালাগাড়ি ইত্যাদি) চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ৪২.৩০ শতাংশ মোটরযানের যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং ৭.৬৯ শতাংশ পথচারী হিসেবে রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর মোটরযান মালিকদের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য সামান্য সহযোগিতা পেয়েছেন ১১.৫৩ শতাংশ ভুক্তভোগী। তবে কেউই মোটরযানের তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকি বিমার মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন সবাই।

দুর্ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী, অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৫৫.৭৬ শতাংশ। মন্তব্য করেননি ১৯.২৩ শতাংশ ভুক্তভোগী। শুধু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৮৪.৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী। চিকিৎসার কোনো এক পর্যায়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫.৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী।  

দুর্ঘটনার সময় ৫১.৯২ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৩-২৫ বছর। ৩০.৭৬ শতাংশের বয়স ছিল ২৬-৪০ বছর এবং ১৭.৩০ শতাংশের বয়স ছিল ৪১-৬০ বছর।

দুর্ঘটনার পর্বে ৩২.৬৯ শতাংশের পেশা ছিল মোটরযানের চালক-শ্রমিক। ১৭.৩০ শতাংশের পেশা ছিল স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের চালক-শ্রমিক। মুদি দোকানি ছিল ১৩.৪৬ শতাংশ, চা দোকানি ও হকার ৯.৬১ শতাংশ, সবজি বিক্রেতা ১১.৫৩ শতাংশ, কৃষি শ্রমিক ও নির্মাণ শ্রমিক ১৫.৩৮ শতাংশ, ঘাটের মাঝি ও মৎস্যজীবী ছিল ৩.৮৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য পারিবারিক সম্পত্তি (জমি ও গৃহপালিত পশু) বিক্রি করেছেন ৬৫.৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী পরিবার। বিক্রি করার মতো তেমন সম্পত্তি ছিল না ৩৪.৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী পরিবারের।

দুর্ঘটনার পূর্বে আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪০.৩৭ শতাংশ বলেছেন মোটামুটি চলছিল। ৫৯.৪২ শতাংশ বলেছেন কষ্ট করে দিনাতিপাত করতাম।

প্রতিবেদনের বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মোটরযানে তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকি বিমা বাধ্যতামূলক আছে এবং এই বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ‘মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স অ্যাক্ট-১৯৮৩’-তে মোটরযানে তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকিবিমা বাধ্যতামূলক ছিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত ছিল ক্লেইম ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু দুঃখজনক যে, উক্ত আইনের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এমন নজির দেখা যায়নি। বিমা কোম্পানিগুলো নিয়মিত প্রিমিয়াম নিলেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত গরিব মানুষেরা চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিস্ব হয়ে পথের ভিখারিতে পরিণত হয়েছেন।

সাইদুর রহমান জানান, তারা ৬৩ জন পঙ্গু ভিক্ষুকের উপর সাক্ষাৎকার ভিত্তিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ১৯টি স্থানসহ ধামরাই, সাভার আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ (আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট) রাজবাড়ি (গোয়ালন্দ ফেরিঘাট) যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে এই জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪১ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
ডিএন/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa