ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

হাসপাতালে রোগী আনলেই ২০ হাজার টাকা-কোরবানির গরু!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট   | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১১ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
হাসপাতালে রোগী আনলেই ২০ হাজার টাকা-কোরবানির গরু!

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। আর এই সুযোগে ঢাকার অখ্যাত হাসপাতালগুলো দালালচক্রের মাধ্যমে পেতেছে ফাঁদ।

উন্নত চিকিৎসার প্রলোভনে সেসব হাসপাতালে দীর্ঘদিন আটকে রেখে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে।

অখ্যাত হাসপাতালে রোগী আনার নামে আগেই শুরু হয় দামাদামি। লাখ টাকার রোগী আনতে পারলে দালালদের ২০ হাজার টাকা বা আসন্ন ঈদে কোরবানির গরু দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার দালাদলদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স দালালচক্রেরও যোগসাজশ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর শ্যামলীতে ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের অন্যতম হোতা সাহাদৎ হোসেন মামুনকে (৪৬) আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)। এসময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ জাল টাকা ও ৫৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে মামুনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালের স্টাফ মো. মহিন উদ্দিন মামুন (৩৬), মো. রহমত উল্লাহ্ (৩২) ও মো. আকরাম হোসেনকে (৫২) আটক করা হয়।

বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির সুযোগে এক শ্রেণির দালালচক্র রাজধানীর কিছু অখ্যাত হাসপাতালের যোগসাজশে সরকারি হাসপাতাল ও জেলার হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসে। এই চক্রের মোটা অঙ্কের কমিশনের লেনদেনে হেনস্তার স্বীকার হচ্ছেন অসহায় রোগীরা। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা কমিশনের বিনিময়ে উচ্চ ভাড়ায় ঢাকার বাইরের রোগীদের নির্ধারিত সেসব হাসপাতালে নিয়ে আসে।

সম্প্রতি এমন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের ধারাবাহিকতায় দালাল সাহাদৎ হোসেন মামুনকে আটক করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, চক্রটি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসে। এরপর রোগীদের অনর্থক আইসিইউ-সিসিউতে রেখে কিংবা অযথা বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।

বিভিন্ন জেলার স্থানীয় সিন্ডিকেটকে লাখ টাকার রোগী আনলে ২০ হাজার টাকা বা কোরবারির গরু কমিশনের অফার দেওয়া হতো। স্থানীয় ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঢাকার হাপাতালের সিন্ডিকেট ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটও জড়িত।

আটক সাহাদৎ হোসেন মামুনের বিষয়ে তিনি বলেন, মামুন খুলনা অঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি এরশাদ সিকদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো বলে জানা যায়। পরবর্তীসময়ে এরশাদ সিকদারের ফাঁসির পর মামুন ঢাকায় এসে নানা ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে করোনা মহামারির সুযোগে হাসপাতালকেন্দ্রিক এই দালালি শুরু করেন। এছাড়া জাল টাকা-মাদক ব্যবসাসহ অন্য প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

মামুন প্রতারণার মাধ্যমে ২৭টি বিয়ে করে যৌতুক ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের নারী স্টাফ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগীর স্বজনদের তিনি এই ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
পিএম/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa