ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

স্টেশন যেমন ফাঁকা, অ্যাপসে তেমন জট

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৪৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
স্টেশন যেমন ফাঁকা, অ্যাপসে তেমন জট স্টেশন যেমন ফাঁকা, অ্যাপসে তেমন জট, ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: সকাল ১০টা। স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে এ সময়টা অফিস টাইম হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভিড় থাকে উপচে পড়া।

বিশেষ করে ঈদের আগে ঈদের যাত্রার টিকিট ছাড়লে স্টেশনের প্লাটফর্ম ও টিকিট কাউন্টারের সামনে পা রাখার জায়গাটিও মেলে না।  

তবে করোনা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে সে চিত্র। খুব ভিড় থেকে মোটামুটি মানের একটা ভিড় গতবার দেখা গেলেও এবার সে চিত্র পুরোই আলাদা।

 

বুধবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনে প্ল্যাটফর্মগুলো যেমন যাত্রীশূন্য, তেমনি টিকিট কাউন্টারের সামনেও নেই ভিড়। এছাড়া স্টেশনের টিকিট কাউন্টার সবগুলোই বর্তমানে বন্ধ। ফলে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং যারা ভুল করে টিকিটের জন্য স্টেশনে আসছেন, তারাও ফিরে যাচ্ছেন অথবা মোবাইল ফোন বের করে অনলাইনে টিকিট করছেন। তবে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে সকালে স্টেশনে টিকিট কাটতে আসা কিশোরগঞ্জের যাত্রী আব্দুর রহিম বলেন, ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিটের জন্য সকাল সকাল স্টেশনে এলাম, কিন্তু এসে দেখি এখানকার সমস্ত টিকিট কাউন্টার বন্ধ। সবাই জানালো অনলাইনে টিকিট করতে হবে। কিন্তু অনলাইনে টিকিট করা যেন ঝামেলাপূর্ণ কাজ, সহজে হতে চায় না।

ফাহিম নামের আরেক যাত্রী বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর মোবাইলে ট্রেনের টিকিটের জন্য রেলসেবা অ্যাপটিতে ঢুকতে পেরেছি। নির্দিষ্টভাবে যাত্রার স্থান এবং গন্তব্য দিয়ে যখন তারিখ নির্ধারণ করতে যাই, তখন "জার্নি ডেট নট ফাউন্ড" দেখায়। ফলে অনেক চেষ্টা করেও এখনও পর্যন্ত টিকিট কাটতে পারিনি।

দুপুর ১২টায় রেজাউল করিম নামে এক যাত্রী বলেন, অনেক চেষ্টা করেও টিকিট কাটতে পারলাম না। সকাল ৮টা থেকেই বলছে "সিট নট এভেইলএভল"।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সরোয়ার বলেন, অনলাইনে সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করার জন্য সার্ভারে আলাদা একটা চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আগে একদিন/দুইদিনের টিকিট ছাড়লেও এবার একসঙ্গে সব দিনের টিকিট ছাড়ায় সার্ভারে চাপ বেশি। তবে অস্থির না হয়ে চেষ্টা করলেই টিকিট মিলবে। পর্যাপ্ত আছে।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) ভোর থেকে সিডিউল অনুযায়ী ট্রেন ছাড়তে শুরু করবে। এ সময় প্রথমে ময়মনসিংহের উদ্দেশে বলাকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে এবং তারপর সিডিউল অনুযায়ী সবগুলো ট্রেন ছাড়বে। মোট ৩৮ জোড়া আন্তঃনগর এবং ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন যাত্রীদের সেবা দেবে। যাত্রীদের ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে।

এদিকে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ট্রেনযাত্রা উপলক্ষে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। সকাল থেকেই স্টেশন পরিষ্কার, জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া এবং ট্রেনগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন শুধু ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষা।

আরো পড়ুন...
>>>ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২১
এইচএমএস/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa